সাতখুন মামলা: নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুরসহ ২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা হয়েছে। 
 
নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম ও নজরুলের সহযোগী শাহজালাল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করে। আদালত আগামী ৪ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে।
 
পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী সকাল দশটায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রধান আসামি নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্তকৃত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (বরখাস্তকৃত) আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বরখাস্তকৃত) এম এম রানাসহ গ্রেফতারকৃত ২৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আসামিদের উপস্থিতিতে পর্যায়ক্রমে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম (শহীদ চেয়ারম্যান) ও নজরুলের সহযোগী শাহজালালের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন।
 
৭ খুন মামলায় কয়েকজন আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপম ও নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের বন্ধু নিহত মনিরুজ্জামান স্বপনের ভাই মিজানুর রহমানের সাক্ষ্য গত ২১ মার্চ গ্রহণ ক‡রন আদালত। 
 
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগীকে হত্যার বিষয়ে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় তার জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অপর একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক বছর পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ মন্ডল ৩৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন। এই মামলায় ৩৫ জন আসামির মধ্যে ২৩ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। ১২ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। বাসস।