ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ, গুলি বর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ, কেন্দ্র দখল, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোট প্রদানসহ অনিয়ম-কারচুপির মধ্য দিয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ ও বরুড়া উপজেলার ১৪টি ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বিকাল আড়াইটায় এসব অভিযোগ এনে সদর দক্ষিণ উপজেলার ৫টি ইউপি’র বিএনপি মনোনীত ৫ প্রার্থী এবং চৌয়ারা ইউপির আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন প্রার্থীসহ ৭ প্রার্থী পৃথক সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করেছেন।
অপরদিকে ভোট চলাকালে কেন্দ্র দখলসহ সংর্ষের ঘটনায় জেলার বরুড়া উপজেলার চিতড্ডা ইউপির মুকুন্দপুর ও ভঙ্গুয়া কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার। দুই উপজেলার এসব ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ৮জন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, ভোট চলাকালে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার পশ্চিম জোড়কানন ইউপির কালিকাপুর মাদরাসা, সুয়াগাজী হাইস্কুল, ফুলতলীসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্র দখলে নেয় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। ৯টার দিকে কালিকাপুর কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা হকিস্টিক, লাঠিসোঠা নিয়ে বিএনপি কর্মীদের ধাওয়া করে। এসময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কেন্দ্র এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটারশূন্য হয়ে পড়ে ওই কেন্দ্র। পুলিশ ওই কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারসেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এতে কিছুক্ষণের জন্য ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। তবে ওই কেন্দ্রে বিকাল ২টা পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি। এ উপজেলার প্রায় সবগুলো কেন্দ্রে কমবেশি এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিকাল আড়াইটার দিকে এ উপজেলার ৫ ইউপির বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন বর্জন করেছেন।
এছাড়া দুপুরে এ উপজেলার চৌয়ারা ইউপির আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এটিএম ইদ্রিস ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা নূর হোসেন পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করেছেন।
অপরদিকে জেলার বরুড়া ইউপির খোশবাস ইউপির আরিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা জাল ভোট মারার সময় আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও জাপার কর্মীদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় গুলি বিনিময়ের ঘটনায় কমপক্ষে ৩ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে জামায়াতের জাকির হোসেন গুরুতর আহত হন। একই উপজেলার আদ্রা ইউপির পেরপেটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের বাইরে একটি বাড়ি থেকে ১৫টি ককটেল এবং ককটেল তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মঞ্জুর হোসেনের বড় ছেলে হাছান জামিলসহ ১৬ জনকে পুলিশ আটক করে থানায় আনার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ উপজেলার চিতড্ডা ইউপির মুকুন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একই ইউপি ভঙ্গুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষ ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম।