চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩৫ উন্নীত করার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান র্কমসূচি পালন করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সাধারণ ছাত্র ছাত্রী। বৃহস্পতিবার ৩ দিন ব্যাপী লাগাতার কর্মসূচি শুরু হয়। শুক্রবার বিকাল ৪টায় শাহবাগ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ প্রত্যাশীরা।
 
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নাদিয়া বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে সরকারী চাকরিতে ৫৫% কোটার মাধ্যমে নিয়োগ হয়। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী আমাদের কোন কোটা নাই। কোটাধারিরা চাকরিতেও কোটা পায়, আবার বয়সও তাদের শিথিলযোগ্য। 
 
IMG2
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের সহ-সভাপতি জুলফিকার খান, এশিয়া ইউনিভার্সিটি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি, জুডিশিয়াল ও ডাক্তার ৩২ বছর পর্যন্ত চাকরিতে আবেদন করতে পারে। নার্স ৩৬ এবং বিভাগীয় প্রার্থীরা ৪০ বছর পর্যন্ত চকরিতে আবেদন করতে পারে। আমরা এখন এই বৈষম্যের সমতা চাই। তাই অনতিবিলম্বে আমাদের এই যৌক্তিক দাবী বাস্থবায়নের জন্য সরকারকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।
IMG0
 
ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলম (সুজন) বলেন, ৬ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তির বিধান নির্দিষ্ট হওয়ার ফলে ১৬ বছর ৩ মাস বয়সে এস.এস.সি পরীক্ষা দিতে হয়। নন পি.এস.সি’র ক্ষেত্রে যে প্রজ্ঞাপন তাতে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ১৮ বছর। কিন্তু ১৮ বছর বয়সে ৪ বছর মেয়াদী অনার্স কিভাবে শেষ হয়? ২ বছর মেয়াদী ডিগ্রিও এখন নেই। এই অযৌক্তিক আইন কিভাবে এখনো বলবৎ থাকে ছাত্র সমাজ দ্রুত এই অকার্যকর আইন বাতিলের দাবি করছি। 
IMG1
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কুমার দাস, তিতুমীর কলেজ বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছর; এ গন্ডি, এ দেয়াল, এ সীমানা প্রাচীর অবরুদ্ধ করে রেখেছে বাংলাদেশের লক্ষকোটি ছাত্র সমাজকে; তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুব সমাজ যখন উপেক্ষিত, লাঞ্চিত, দিশেহারা, ঠিক এমন সময় বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্পীকার থাকা অবস্থায় ৩১ জানুয়ারি ২০১২ সালে মহান জাতীয় সংসদে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে; যুব সমাজ আশার আলো দেখে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ২১তম বৈঠকে ৩২ বছর করার সুপারিশ করেন। নবম জাতীয় সংসদে ১৪তম অধিবেশনে ৩৫ বছর এই প্রস্তাবটি প্রথম প্রস্তাব হিসেবে গৃহীত হয়। গড় আযু যখন ৪৫ ছিল তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭, যখন ৫০ ছাড়ালো তখন প্রবেশের বয়স ৩০ হলো। বর্তমানে গড় আযু ৭১ হলে চাকরিতে প্রবেশের বয়স এখন কত হওয়া উচিত? 
 
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক না হওয়ায় ১৪ বছরে এস.এস.সি পাস করা হম্ভব হত। পূর্বে ডিগ্রি অনার্স কোর্স ছিল ৩ বছর এবং ডিগ্রি (পাস) কোর্স ছিল ২ বছর ফলে ১৮ কিংবা ১৯ বছর বয়সে ¯œাতক পাস করা যেত। ফলশ্রুতিতে ১৮ কিংবা ১৯ বছর বয়সে বিসিএস সহ পি.এস.সির অন্যান্য চাকুরিগুলোতেও আবেদন করা যেত। ১৬ বছর এখন নির্দিষ্ট (এস.এস.সি’র ক্ষেত্রে)। নন পি.এস.সি’ৎর ক্ষেত্রে ১৮ বছর এই চলমান আইনটি এখন অকার্যকর। ক্যাডারের ক্ষেত্রে ২১ বছরের আইনটিও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ২৩ হচ্ছে আবেদনের শুরু, যদি তাই হয়, পূর্বের ন্যায় যদি আমাদের (১৮-৩০)১২ বছর সময় দেওয়া হয় তাহলে সহজ হিসাব ২৩ এর সাথে আমাদের সুযোগ ১২ বছর যোগ করলে ২৩+১২= ৩৫ বছর।
 
আইনগুলো সংশোধন করলেইতো চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর এমনিতেই হয়ে যায়, এর জন্য তো কোন আন্দোলনের প্রয়োজন হয় না। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের মাস্টার ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষার অরম ফিলাপ এখনও চলমান। যদিও বর্তমানে ২০১৬ সাল চলছে; তবে প্রশ্ন রয়ে যায়- ২০১৩,২০১৪,২০১৫ এবং ২০১৬ সালের মাস্টার ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষা কবে অনুষ্টিত হবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৬% শিক্ষার্থী সেজন জটে আক্রন্ত এবং ৪% শিক্ষার্থী সেশন জট মুক্ত।