কলারোয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলায় সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এ সময় চার জন আহত হয়। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার দিয়াড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষকের নাম মোসলেম আলী সানা (৫৪)। তিনি ওই গ্রামের মৃত খোরশেদ আলী সানার বড় ছেলে।
দিয়াড়া গ্রামের ওজিয়ার রহমান সানা, জাহিদ হোসেন, জুয়েল হোসেনসহ আরো অনেকে জানান, মোসলেম আলী সানার সাথে তার ছোট ভাই ইদ্রিস আলীর ভিটে বাড়ির মধ্যে ১৩ শতাক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। গত বৃহস্পতিবার সকালে ইদ্রিস আলীর স্ত্রী ওই জমির উপর থেকে পাতা কুড়াতে যায়।
এনিয়ে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে মোসলেম আলীর স্ত্রী মনজুয়ারা বেগম রাতে কথা কাটা কাটির এক পর্যায়ে ঝগড়া বিবাধে জড়িয়ে পড়ে। এসময় মোসলেম আলীর ছেলেদের সাথে ইদ্রিস আলীর পক্ষের লোকদের সাথে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে ধারালো দা, কুড়াল লাটির আঘাতে আহত হয় ইদ্রিস আলী, গোলাম সরোয়ার, গোলাম মোস্তফা ও মোসলেম আলী। রাত ১১ টার দিকে খবর পেয়ে পার্শ্বকর্তী খোরদো ফাঁড়ি পুলিশেল সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
নিহত মোসলেম আলীর ছেলে আহত জসিম উদ্দীন জানান, হামলা সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার পর তাদের বাড়িতে পুলিশ যায়। তারা কেন মারামারিতে জড়ালো এমন অভিযোগ এনে এস আই লুৎফর তার বাবাকে ধরে নিয়ে যয়। পরে তারা জানতে পারে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশী হেফাজতে বিনা চিকিৎসায় তার বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
খোরদো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই লুৎফর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি দুই পক্ষকে আর বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুশিয়ার করেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে হসাপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালে যাওয়ার পথে মোসলেম আলী (হার্ট এ্যাটাকে) হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারেন বলে তার ধারনা।
কলারোয়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার নাঈম ছিদ্দিকী জানান, মোসলেম আলীকে মৃত অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত এক টার দিকে কলারোয়া হাফিজা ক্লিনিকে এ্যামবুলেন্সে করে তাকে হাসাপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এসময় নিহতের শরীরে আঘাতে কোন চিহ্ন তিনি দেখতে পাননি।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শফিকুর রহমান জানান, জমিজমা ছাড়াও বাড়িতে একটি ঘর তৈরি করে তার চাল দেওয়া নিয়ে মোসলেমের সাথে তার ভাই ইদ্রিস আলী ও ভাতিজা গোলাম সারওয়ারের বিরোধ বাধে। তারই জেরে মারামারির সময় ভাতিজার আঘাতে আহত হন মোসলেম। এসময় হার্ট এ্যাটাক করলে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি।