রাজশাহীর ড্রেন থেকে নওগাঁর যুবকের লাশ উদ্ধার

পারিবারিক কলহের জেরে খুন হন রাসেল

 
রাজশাহী মহানগরীর গুড়িপাড়া এলাকার চান্নাসাকোর নিচের সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন থেকে উদ্ধারকৃত লাশের পরিচয় মিলেছে। পরিবারের লোকজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে গিয়ে তার লাশটি সনাক্ত করেন। তার নাম রাসেল (৩০)। তিনি নওগাঁর সৌরভ হোসেনের ছেলে।
 
পুলিশ জানায়, রাসেলকে হত্যার পর লাশ ড্রেন ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রাসেলের স্ত্রী শরীফা বেগমের প্রথম পক্ষের স্বামীর ছেলে রবিনকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। রাসেলের স্ত্রী শরীফা বেগমকেও আটকের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
 
রাসেলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পারিবারিক কলহের জের ধরে রাসেলকে তার স্ত্রী শরীফা এবং তার আগের স্বামীর পক্ষের  ছেলেরা হত্যা করেছে। হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা লাশ ড্রেনে ফেলে রেখে যায়। তারা আরও দাবি করেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলেও রাসেল তার মামাতো বোন ইতির কাছে নিজ স্ত্রী শরীফা এবং তার প্রথম স্বামীর ছেলেরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। এসময় রাসেল কোনো ভুলত্রুটি করে থাকলে ইতিকে মাফ করে দিতেও অনুরোধ করেন। সেখান থেকে আসার পরই শুক্রবার সকালে রাসেলের লাশ সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনের মধ্যে পড়ে আছে বলে খবর পান ইতির পরিবারের লোকজন।
 
ইতির স্বামী পাইলট হোসেন বলেন, রাসেলকে তার স্ত্রী শরীফা ও তার প্রথম পক্ষের ছেলেরা গত কয়েকদিন ধরে হত্যার জন্য ষড়ন্ত্র করে আসছিল। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে ছিলেন রাসেল। গত প্রায় চার বছর আগে এক রকম জোর করে রাসেলকে বিয়ে করেন প্রায় ৪৫ বছর বয়স্ক নারী শরীফা।
 
অথচ রাসেলের বয়সেরই দুটি সন্তান রয়েছে তার। বিয়ের পর থেকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারীর রাসেলের সঙ্গে মহানগরীর লক্ষীপুর ঝাউতলা এলাকায় ভাড়া থাকতেন রাসেল ও শরীফা। এরই মধ্যে তাদের ঘরে দু’বছর আগে একটি ছেলে সন্তানও আসে।  
মহানগরীর রাজপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান জানান, সকালে সাকোর নিচে প্রায় বছর বয়সী অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
 
পরে রামেক মর্গে এসে পরিবারের লোকজন রাসেলের লাশ শনাক্ত করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাসেলের স্ত্রীর আগের স্বামীর পক্ষের ছেলে রবিনকে আটক করা হয়েছে। শরীফাকেও আটকের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো জানান, নিহত রাসেলের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল রিপোর্টে আগাতের চিহ্ন ধরা পড়েছে। এ থেকে ধারনা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কেন তাকে হত্যা করা হলো সেটি তদন্ত করে বের করা হচ্ছে।