বাকৃবি শিক্ষার্থী সাদ হত্যার দুই বছর, বিচার হয়নি আসামিদের

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্র সাদ হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পার হয়ে গেলেও বিচার হয়নি অভিযুক্ত আসামিদের। ২০১৪ সালের পহেলা এপ্রিল নিহত হয় সাদ ইবনে মোমতাজ।  ক্লাস প্রতিনিধি নির্বাচন এবং ক্লাশ পরীক্ষার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহপাঠী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়ে মারা যায় মোমতাজ। সে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা ছিল। আসামিদের অনেকেই দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাস ছাড়া হয়েছেন অনেকে।
 
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, সাদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৪ সালের ৯ এপ্রিল জরুরি সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জনকে আজীবন, ২ জনকে ৪ বছর এবং ১ জনকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতদের মধ্যে ওই বছরের ২ এপ্রিল পালিয়ে যাওয়ার সময় ময়মনসিংহের পাটগুদাম মোড়ের কাছ থেকে সুজয় কুমার কুন্ডু ও রোকনুজ্জামান রোকনকে এবং ওই বছরের ১৭ এপ্রিল গাইবান্ধা থেকে অন্তর চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। আর ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় অপর ৩ আসামি রেজাউল করিম রেজা, নাজমুল শাহাদাত রাসেল ও দেওয়ান মোহাম্মদ মোস্তাকা মুফরাত।
 
অন্যদিকে ১৪ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। আসামিরা হলেন- সুজয় কুমার, রোকনুজ্জামান, সাদেকুর রহমান, রোকন, রেজাউল করিম, নাজমুল শাহাদাত, মুনতাকা মুফরাত, অন্তর চৌধুরী, সুমন পারভেজ, মিজানুর রহমান, ফয়সাল ইসলাম, মনোয়ারুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ এবং প্রশান্ত দে। এরা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিলেন। এর ভিতর প্রথম ৮ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছে। বাকি ৬ জন বিরুদ্ধে এখনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। পুলিশ যে কোন সময় তাদের গ্রেফতার করতে পারে বলে জানিয়েছে কোতয়ালি থানা। কিন্তু  হত্যাকাণ্ডের দুইবছর পেরিয়ে গেলেও তাদের ধরতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ।
 
মামলাটি আদালতে বিচারাধীন আছে এবং এর পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ জুন হবে বলে আদালত সূত্রে জানা  গেছে। এবিষয়ে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।