ইডেন গার্ডেনে রবিবার ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টি ফাইনাল

ফ্লাইওভার ধসে চাপা পড়েছে ফাইনালের আগ্রহ

কলকাতার বিখ্যাত ইডেন গার্ডেনে রবিবার ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টির ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বৃহস্পতিবার নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের একটি অংশ ধসে হতাহতের ঘটনার পর আমূল বদলে গেছে সেখানকার পরিবেশ।
 
এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। বহু মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিবিসি নিজস্ব প্রতিনিধির বরাত দিয়ে জানায়, এই দুর্ঘটনার পর লোকজনের মনের যে অবস্থা তার প্রভাব এরইমধ্যে ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচটিতেও পড়তে শুরু করেছে। রাস্তায় বিমানবন্দর থেকে পথচারী, ট্যাক্সিচালক সবার মুখে একটাই কথা। ফ্লাইওভার কিভাবে ধ্বসে পড়লো, কেন পড়লো, কত মানুষ এখনো চাপা পড়ে থাকতে পারে এমন সব প্রশ্ন। উদ্ধারকাজে প্রশাসন যথেষ্ট তৎপরতা দেখাচ্ছে কি-না সেই প্রশ্নও করছেন তারা।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফ্লাইওভার ধসে পড়া এবং রাতে ভারতের হেরে যাওয়া-এই দুটো ঘটনার পর ফাইনাল থেকে কলকাতার মনোযোগ অনেক সরিয়ে দিয়েছে। ফাইনাল উপলক্ষে শুক্রবার রাতে আইসিসি স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাবে একটি সান্ধ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানেও খেলার থেকে ফ্লাইওভার প্রসঙ্গই ছিল বেশি। যদিও ইডেনের কাছে এই খেলাটির অনেক গুরুত্ব রয়েছে। ১৯৮৭ সালে ইডেন গার্ডেনসে বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছিল। তার প্রায় তিন দশক পরে আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে যাচ্ছে। মাঝখানে ইডেনকে অনেক কলঙ্ক বইতে হয়েছে।
 
১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল শেষ করা যায়নি এই মাঠে। শ্রীলঙ্কার ভারত যখন হারছিল দর্শকরা মাঠে বোতল ছুড়তে শুরু করে। খেলা মাঝপথে দর্শকদের আচরণের কারণে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কাকে বিজয়ী ঘোষণা করতে হয়েছিল। ২০১১ সালে ভারত ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ম্যাচ “প্রস্তুতি শেষ হয়নি” বলে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।
 
এখন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের নেতৃত্বে এসেছেন সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি। তার হাত ধরে ইডেন এই বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু যে আগ্রহ দেখা যাবে ভাবা হয়েছিল তা আর নেই। এখন আর ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা নেই মোটেই। এখন সমস্ত আলাপ ফ্লাইওভার ধস নিয়েই। বিবিসি।