হিলারির ইমেইল পুনর্নিরীক্ষা স্থগিত করল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ক্লিনটনের ইমেইলে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য সঠিকভাবে আদান-প্রদান করা হয়েছে কিনা তা অভ্যন্তরীণভাবে পুনরায় নিরীক্ষার একটি উদ্যোগ স্থগিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এফবিআইয়ের অনুরোধে এটি করা হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়টির একজন মুখপাত্র। 
 
ওবামা প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন। ওই সময় ব্যক্তিগত ইমেইল সার্ভার দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করেছিলেন তিনি।  নিজের এই কর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি কোনো অন্যায় করেননি বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে থাকা হিলারি। 
 
আগামী ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ওই নির্বাচনে হিলারি জয়ী হবেন বলে অনেকের ধারণা।  রাষ্ট্রীয় কাজে তার ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের  গোয়েন্দা সংস্থা দ্য ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।  
 
২৯ জানুয়ারি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হিলারির পাঠানো অথবা গ্রহণ করা ২২টি ইমেইল গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অনুরোধে শীর্ষ গোপনীয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এগুলো হিলারির প্রকাশিত কয়েক হাজার ইমেইলের সঙ্গে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।  পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় নিজের নিউ ইয়র্কের বাড়িতে থাকা একটি সার্ভার ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনটনইমেইল ডটকম একাউন্ট থেকে এসব মেইল পাঠিয়েছিলেন হিলারি। 
 
পাঠানোর সময় এসব ইমেইলকে গোপনীয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়টি। একই সময় মন্ত্রণালয় আরো জানায়, পাঠানোর সময় এসব ইমেইলে থাকা তথ্যগুলো গোপনীয় ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ পুনর্নিরীক্ষা করবে তারা। 
 
এ ব্যাপারে ফেব্রুয়ারিতে এফবিআইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আর মার্চে এফবিআই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাদের তদন্ত স্থগিত করার অনুরোধ জানায়। যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এলিজাবেথ ট্রুডো জানিয়েছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি তদন্ত চলমান থাকায় আমাদের অভ্যন্তরীণ পুনর্নিরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। রয়টার্স।