ভারতে নির্বাচন: ছেড়ে কথা বলছে না কেউ

আর একদিন বাদেই পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের চারটি রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন। তাই সর্বত্র এখন বইছে নির্বাচনের উত্তপ্ত হাওয়া। সকল দলের নেতারা রয়েছেন প্রচার-প্রচারণায়। এই নির্বাচনী হাওয়াকে গরম করে তুলেছে শাসক ও বিরোধী দলের আক্রমণাত্মক ভাষায় বক্তৃতা-বিবৃতি। ছেড়ে কথা বলছে না কেউ কাউকে।
 
সারদা কেলেঙ্কারি, নির্বাচনের ঠিক আগে দলের মন্ত্রী-এমপিদের ঘুষ নেয়ার ভিডিও প্রকাশ এবং ফ্লাইওভার ভেঙে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল তৃণমূলকে বেশ চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই ইস্যুগুলো নির্বাচনে সরকারি দলকে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিরোধী দল।
 
ফ্লাইওভার ধসে আহতদের জন্য বামপন্থীদের রক্তদান শিবির বন্ধ করে দেয়া নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে সেখানে।
 
যদিও মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিরোধী দলকে জবাব দিচ্ছেন ঝাঁঝালো স্বরে। তাঁর ভাষায় আগের চেয়ে আরও বেশিসংখ্যক আসন পেয়ে আবারো ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল।
 
ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ুতে আঞ্চলিক দলগুলো ভালো করবে। অন্যদিকে কেরালা রাজ্যে বামপন্থী জোট ও কংগ্রেসের মধ্যে লড়াই হবে। শুধুমাত্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজেপির জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিগতভাবে বিভক্ত আসাম ২০০১ সাল থেকেই কংগ্রেসের দখলে। মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর নেতৃত্বে দলটি ২০০১, ২০০৬ ও ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু এবারে চিত্র কিছুটা হলেও ভিন্ন। মুখ্যমন্ত্রী গগৈ বর্তমানে কঠিন এক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই অবস্থায় দিল্লি ও বিহার হাতছাড়া হওয়ার পর এই প্রদেশটিতে জয়লাভের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি।
 
মওলানা বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন মুসলিম নিয়ন্ত্রিত অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) সঙ্গে কংগ্রেসের নির্বাচনী জোট বাঁধার ব্যর্থতা বিজেপির সফলতার অন্যতম কারণ হতে পারে।
 
এদিকে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীর সমাবেশ সফল করার জন্য মাঠে নেমেছেন রাজ্যের কংগ্রেস ও সিপিআই (এম) কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় প্রচারে এসে শনিবার বর্ধমানের কুলটি ও দুর্গাপুরে সভা করেন রাহুল। বামদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় এবার কুলটি দুর্গাপুর পশ্চিম আসনটি পেয়েছে কংগ্রেস। বিভিন্ন এলাকায় কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পতাকা- ফেস্টুন বাঁধার সব কাজই করছেন সিপিএম কর্মীরা। সূত্র: বিবিসি