বিশ্বকাপ ফাইনাল আজ

ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রতীক্ষিত ফাইনাল আজ রবিবার। আজ দ্বিতীয়বারের মত শিরোপার লড়াইয়ে নামবে সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
 
কলকাতার ইডেন গার্ডেনে খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। একই মাঠে আজ বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে মেয়েদের  ফাইনাল। মেয়েদের ফাইনালে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার সাথে শক্তি পরীক্ষায় নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেয়ার মধ্য দিয়ে ২৭ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এ ক্রিকেট মহাযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
 
ফাইনাল জিতে ট্রফি হাতে নেয়ার ব্যাপারে আশাবাদী দুই দলই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি খেলার আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তিনি নিজের দলকে ফেভারিট মনে করেন না। তবে নিজেদের ওপর বিশ্বাস আছে তার। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক এউইন মরগ্যান বলেছেন, আজকের ফাইনালটা হতে যাচ্ছে স্নায়ুর লড়াই। তারা এই স্নায়ুচাপ নেয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
 
গত ৮ মার্চ ভারতের নাগপুরে হংকং ও জিম্বাবুয়ের বাছাইপর্বের ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসর শুরু হয়। বাছাই পর্বে বাংলাদেশসহ ৮টি দল দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশ নেয়। গ্রুপ ‘এ’ থেকে সেরা দল হিসেবে বাংলাদেশ এবং গ্রুপ ‘বি’ থেকে আফগানিস্তান সুপার টেনে ওঠার সুযোগ পায়। সেরা দশের লড়াইয়ে গ্রুপ-১ এ দুই ফাইনালিস্ট দল ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়াও ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। গ্রুপ-২ এ স্বাগতিক ভারতের সাথে ছিল অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। ১৫ মার্চ সেরা দশ পর্ব শুরু হয় স্বাগতিক ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে। গ্রুপ পর্ব শেষ হয় ২৮ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে।
 
গ্রুপ-২ ‘ডেথ গ্রুপ’ হিসেবে পরিচিত লাভ করলেও শেষ পর্যন্ত এই গ্রুপের কেউই ফাইনালের টিকেট পায়নি। দুই ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এসেছে গ্রুপ-১ থেকে। সেমিফাইনালের পথে ইংল্যান্ড প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৬ উইকেটে পরাজিত হলেও পরের তিন ম্যাচে যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২ উইকেটে, আফগানিস্তানকে ১৫ রানে এবং শ্রীলঙ্কাকে ১০ রানে পরাজিত করে। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্যায়ে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচে জয় তুলে নেয় ড্যারেন সামিরা। ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে, শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩ উইকেটে পরাজিত করলেও চতুর্থ ও শেষ ম্যাচে আন্ডারডগ আফগানিস্তানের কাছে ৬ রানে হেরে আলোচনার জন্ম দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।     
 
দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ৭ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্টে চার ম্যাচে অপরাজিত থাকা নিউজিল্যান্ড বিদায় নেয়। পরের দিন মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে একই ব্যবধানে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে ড্যারেন স্যামির দল।
 
দুটি দলই এই নিয়ে দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। এর আগে ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে ৩৬ রানে স্বাগতিকদের পরাজিত করে শিরোপা লাভ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 
 
ফাইনালে অংশ নিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল গত শুক্রবার কলকাতায় পৌঁছায়। ইংল্যান্ড এসেছে আরো একদিন আগে। টুর্নামেন্টে গত কয়েক ম্যাচের পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, আজকের মাচে কোনো দলই বিশেষ খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালে ওঠার পেছনে প্রতিটি ম্যাচেই বিভিন্ন খেলোয়াড়ের অবদান ছিল। ক্রিস গেইল, মার্লন স্যামুয়েলস, জনসন চার্লস, লেন্ডল সিমন্সরা সবাই আলাদা দিনেই জ্বলে উঠেছিলেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার পেছনে বিভিন্ন দিনে অবদান রেখেছেন জো রুট, জস বাটলার কিংবা জেসন রয়।
 
চলতি টুর্নামেন্ট ক্যারিবিয়ানরা ব্যাটিংয়ে বাহাদুরি দেখিয়েছে। প্রথম ম্যাচে ১৮০ রানেরও বেশি টার্গেট অতিক্রম করে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে পরাজিত করেছে। এরপর সেমিফাইনালে ১৯০ রানের বেশি টার্গেট অতিক্রম করে ৭ উইকেটে পরাজিত করেছে স্বাগতিক ভারতকে। তবে দুটি ম্যাচই হয়েছে ব্যাটসম্যানদের স্বর্গ মুম্বাইয়ে। তবে কলকাতার উইকেটের চরিত্র একেবারেই ভিন্ন। পিচে ঘাস রয়েছে; যা স্পিনারদের সহায়তা করবে। এমন পিচে মইন আলী ও আদিল রাশিদের মত ইংলিশ স্পিনারদের দেখে-শুনে খেলতে না পারলে বিপদে পড়বে ক্রিস গেইলরা।