বীরঙ্গনার সম্মানী ভাতা পেলেন মালেকা বেগম

দৈনিক ইত্তেফাকে খবর প্রকাশ হওয়ায় স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর রাজাকারদের হাতে নির্যাতিত ও সম্ভ্রম হারানো বীরঙ্গনা মালেকা মুক্তিযোদ্ধার মার্যদা পেয়েছেন।রবিবার তিনি পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী।
 
রবিবার বিকাল ৪টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ইরতিজা আহসান বীরঙ্গনা মালেকা বেগমকে মাসিক ৮ হাজার টাকা হিসাবে ৬ মাসের ৪৮ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন।
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস,  মনাকষা ইউনিটের ডেপুটি মু্ক্তিযোদ্ধা কমান্ডার  প্রভাত সিংহ । 
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ইরতিজা আহসান বলেন, সরকার ৭১ সালের পাকাবাহিনী ও তাদের দোসর রাকাদারদের দ্বারা নির্যাতিত বীরঙ্গনাদের মধ্যে গত অক্টোবর মাসে সারা দেশে ৪১ জনের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ হয়। গেজেট প্রকাশের পর প্রথম সম্মানী ভাতা
পেলেন। প্রথম কিস্তিতে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ৬ মাসে ৪৮ হাজার টাকা পেলেন এবং এখন থেকে প্রতিমাসে মুক্তিযোদ্ধাদের সমান সম্মানী ভাতা পাবেন। এ সময় তিনি বীরঙ্গনা মালেকা বেগমকে নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।
 
এ ব্যাপারে বীরঙ্গনা মালেকা বেগম জানান, রাজাকার ও পাকবাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়ে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে  স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার ও তাদের  দোসরদের কাছে বিভিন্ন ধরনের ভর্ৎসনা শুনে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে মানবেতর জীবনযাপন করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দয়ায় আমি একসঙ্গে ৪৮ হাজার টাকা পেলাম ও পেলাম অনেক সম্মান ও মর্যাদা। আজ আমি মহাখুশি। আমার মানবেতর জীবনযাপনের অবসান ঘটলো। স্ববলম্বী হলাম।  এখন শুধু আমার চাওয়া  ৭১ সালে সারা দেশে আমার মত যারা রাজাকার ও তাদের দোসররা নির্যাতিত হয়েছে ও সম্ভ্রম হারিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা।