ওবামার কথায় ‘বিস্মিত’ দিল্লি

 
ভারতের ধারণা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কখনো এমন কিছু বলবেন না যাতে দিল্লি নাখোশ কিংবা বিস্মিত হয়। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সম্মুখে তো নয়ই। কিন্তু এবার দৃশ্যতই কিছুটা ‘ডিগবাজি’ খেলেন ওবামা! ওয়াশিংটনে পরমাণু নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে হাত মিলিয়ে ‘এক সুরে’ কথা বলার পরের দিনেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে শোনা গেল অন্য সুর।
 
সামনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তাই প্রকাশ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করলেন। আর সেটা করতে গিয়েই কিছুটা ‘ডিগবাজি’ দিলেন তিনি। শনিবার ওয়াশিংটনে ‘নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি’ সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে ওবামা বললেন, ‘ভারতীয় উপমহাদেশে যে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তা কমাতে ভারত ও পাকিস্তানকে যৌথভাবেই উদ্যোগী হতে হবে। দু’পক্ষের কাছ থেকেই আমরা সেই উদ্যোগটা দেখতে চাই। দুটি দেশই যেভাবে সামরিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে, তাতে এখন তাদের প্রমাণ করতে হবে, তারা ভুল কিছু করছে না। ভুল পথে হাঁটছে না।’
 
কূটনীতিকদের বক্তব্য, পাকিস্তানের সঙ্গে একই কাতারে দাঁড় করানোয় বেশ বিস্মিত হয়েছে দিল্লি। অথচ একদিন আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সুরে সুর মিলিয়ে এই উপমহাদেশে শান্তির লক্ষ্যে ভারতের ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওবামা এ ব্যাপারে দুটি দেশকেই তাদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়ায় ভারত খানিকটা বিস্মিত। দিল্লির তরফেও উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে।
 
এদিকে, সামনে হঠাৎ করে এসে যাওয়া সুযোগটা সঙ্গে সঙ্গে কাজে লাগিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র  সচিব আইজাজ চৌধুরী বলেছেন, ‘গত ৪০ বছর ধরে পাকিস্তান খুব বিচার-বিবেচনা করেই পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্র বানাচ্ছে। যেচে কারো ক্ষতি করার জন্য সেসব বানাচ্ছে না।’
 
তবে কূটনীতিকরা এও বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ দিনের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানই। ওবামা তার ভাষণে বলেছেন, ‘কোনো কোনো দেশ যেভাবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র সম্ভার বাড়িয়ে চলেছে, তাতে উদ্বেগের কারণ রয়েছে যথেষ্টই। ওই দেশগুলো ছোট ছোট ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র বানিয়ে চলেছে বা সেসব মজুত করছে।’
 
কূটনীতিকদের একাংশের বক্তব্য, পাকিস্তানের কথা মাথায় রেখেই এটা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কারণ পাকিস্তানই অন্যতম প্রধান দেশ, যারা গত কয়েক বছর ধরে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্রই বানিয়ে চলেছে। কারণ হিসেবে বলছে, ভারতের জন্যই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামাবাদকে এসব বানাতে হচ্ছে। কিন্তু রিপাবলিকানদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে ‘ভারত-বন্ধু’ বলে পরিচিত আমেরিকার ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট কিভাবে ভারত আর পাকিস্তানকে একই পংক্তিতে বসিয়ে ফেললেন, তা নিয়ে নানা মহলে যথেষ্টই বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।
 
কংগ্রেসের মুখপাত্র মনীশ তিওয়ারির বক্তব্য, দুটি দেশকে একইভাবে দেখা ও এক পাল্লায় মাপা মোটেই ঠিক হয়নি ওবামার। এতে মোদী সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার দিকে আঙ্গুল তুলেছেন তিনি।