অনলাইন কার্যতালিকা অনুসরণ করে হাইকোর্টে বিচার কার্যক্রম

 
অবশেষে উঠে গেলো কাগজে ছাপানো কার্যতালিকা। প্রদর্শিত হলো অনলাইন কার্যতালিকা। এই অনলাইন কার্যতালিকা অনুসরণ করে গতকাল রবিবার থেকে মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়েছে হাইকোর্টে।
 
আইনজীবীদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মার্চ মাস পর্যন্ত কাগজে ছাপানো কার্যতালিকা রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে চলে আসা কাগজে ছাপানো কার্যতালিকা উঠিয়ে দেয়া হলো। ফলে গতকাল রবিবার হাইকোর্টের কোন বেঞ্চে ছিল না এই কাগজের কার্যতালিকা। প্রদর্শিত হয়েছে অনলাইন কার্যতালিকা।
 
এ প্রসঙ্গে হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ বলেন, আগের ঘোষণা অনুসারে রবিবার থেকে হাইকোর্টে কাগজে কার্যতালিকা ছাপা হয়নি। অনলাইন কার্যতালিকায় আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। কোথাও কোন কাজের ব্যাঘাত ঘটেনি। আশা করছি, আইনজীবীসহ সকলের সহযোগিতায় এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ডিজিটাল জুডিশিয়ারি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
 
এদিকে অনলাইন কার্যতালিকার পাশাপাশি কাগজে ছাপানো কার্যতালিকা রাখার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন আইনজীবীরা। গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
 
এতে অংশ নেন বার কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান শম রেজাউল করিম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী, অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী, অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু, অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মাদ চৌধুরী আলাল প্রমুখ। বক্তারা বলেন, অবিলম্বে যদি কাগজের কার্যতালিকা ছাপানোর উদ্যোগ নেয়া না হয় তাহলে আইনজীবীরা আদালত বর্জন করবে। এদিকে বিকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায়ও আইনজীবীরা একই দাবি তোলেন। সমিতির নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করবেন বলে আইনজীবীদের জানান।
 
প্রসঙ্গত, প্রতিদিন রাত সাড়ে আটটা থেকে হাইকোর্ট বিভাগের প্রত্যেকটি বেঞ্চের পরবর্তী দিনের কার্যতালিকা চূড়ান্তভাবে অনলাইনে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রতিটি কাগজে ছাপানো কার্যতালিকার পেছনে ৪শ’ টাকা খরচ পড়ত। বছরে ব্যয় হত ২১ কোটি টাকা। এখন এই পরিমাণ অর্থও সাশ্রয়ী হলো বলে জানান সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা।