আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী একটি গোপন সমুদ্র অনুসন্ধান কোম্পানির মাধ্যমে দেশের ব্যাংকগুলোতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন, যা তিনি গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি পানামার একটি ল’ ফার্মের এক কোটি দশ লাখ গোপন নথি ফাঁস হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে; বিশ্বের ধনী আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কোন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বেরিয়ে আসছে সেই তথ্য। বিবিসি বলছে, ফাঁস হয়ে যাওয়া নথির বরাতে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ড গুনলাগসন ও তার স্ত্রী ২০০৭ সালে উইনট্রাস নামের কোম্পানিটি ক্রয় করেন।
২০০৯ সালে দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাওয়া লভ্যাংশের কথা গোপন করেছিলেন। এর আট মাস পর উইনট্রাস নামের কোম্পানিটির ৫০ শতাংশ তার স্ত্রীর কাছে মাত্র ১ মার্কিন ডলারে বিক্রি করেন গুনলাগসন। তিনি দাবি করেছিলেন, এতে আইন ভঙ্গ হয়নি এবং তিনি এবং তার স্ত্রী আর্থিকভাবে লাভবান হননি।
২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী গুনলাগসনের স্ত্রী আনা সিগুরলাগ পালসডোটিরের সই করা একটি নথিতে দাবি করা হয়েছে, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কোম্পানিটির মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়েছে। ফাঁস হয়ে যাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গুনলাগসনকে উইনট্রাসের সাধারণ আইনি ক্ষমতা দেওয়া আছে। এর মধ্যদিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাকে কোম্পানিটি পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালে অর্থনৈতিক মন্দা শুরুর পর আইসল্যান্ডের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক পথে বসে। ওই তিন ব্যাংকের বন্ডে উইনট্রাসের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে।
উইনট্রাসের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দাবির কারণে ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়। গুনলাগসন ২০১৩ সালে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশের গ্রাহকদের তাদের জমানো সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার চাপ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখেন গুনলাগসন।
যদি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হতো তবে আইসল্যান্ডের ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতো এবং উইনট্রাসের বন্ডগুলোর মূল্য কমে যেতো। গুনলাগসনের মুখপাত্র দাবি করেছেন, পালসডোটির সবসময় কর কর্তৃপক্ষের কাছে তার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। কিন্তু পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে উইনট্রাসের লাভ জানানোর প্রয়োজন নেই গুনলাগসনের। তিনি আরো বলেন, উইনট্রাসের যৌথ শেয়ার সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে কারণ প্রধানমন্ত্রী এবং তার স্ত্রী দুজনেরই একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বিবিসি।