বাঁশখালীতে ‘পুলিশের গুলিতে’ নিহত ৩

চট্টগ্রামের উপজেলার গণ্ডামারায় কয়লা প্রকল্পবিরোধী সমাবেশে ‘পুলিশের গুলিতে’ তিনজন নিহত হয়েছেন।
 
সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-গণ্ডামারা গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে মরতুজা আলী (৫২), তার ভাই আংকুর আলী (৪৫), একই এলাকার নূর আহমদের ছেলে জাকের আহমদ (৩৫)। এ সময় বাশখালী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার, এসআই বেলাল উদ্দিন, কনস্টেবল খোরশেদ আলম, কনক সিংহ, আনসার সদস্য মোতারেভসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
 
স্থানীয় আবদুর রহমান, আবুল বশর, আলী নবী জানান, সোমবার ভোর রাতে পুলিশ গণ্ডামারা অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৭ জনকে গ্রেফতার করেন। তাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিকেলে বসতভিটা রক্ষা কমিটির উদ্যোগে কয়লা প্রকল্পবিরোধী এলাকার মানুষ  সমাবেশ আহ্বান করে। পুলিশ ওই সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করে। ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে লোকজন সমাবেশে জড়ো হতে চাইলে পুলিশ এলোপাতাড়ি রাবার বুলেট ও গুলি ছুড়ে। এ সময় পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
 
বাঁশখালী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, একই স্থানে দুটি পক্ষ সমাবেশ আহ্বান করলে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু কয়লা প্রকল্পেরবিরোধীরা পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশ পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
 
প্রসঙ্গত, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাঁশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ আন্দোলন করে আসছে। এ নিয়ে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি দেখা দিলে গত ২৩ মার্চ পুলিশের উদ্যোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, ইউএনও শামসুজ্জামান ও ওসি স্বপন কুমার মজুমদারের উপস্থিতিতে গণ্ডামারা ইউনিয়নের সকাল বাজারে এক শান্তি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশ থেকে স্থানীয় জনগণ বাঁশখালীর লোকালয়ে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প না করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জনমত উপেক্ষা করে এখানে কয়লা প্রকল্প না করতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হবে বলে জনগনকে আশ্বস্থ করেন। এর পর এলাকার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ হয়ে এলেও গত শনিবার বিকেলে কয়লা প্রকল্পের লোকজন এলাকা পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এ নিয়ে মামলা হলে পুলিশ সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে গণ্ডামারা থেকে আসত আলী, হুমায়ুন কবির, শাহ আলম, বখতেয়ার ও লোকমানসহ ৭ জনকে আটক করে। তাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোমবার বিকাল ৩টায় সমাবেশের ডাক দেয় বসতভিটা রক্ষা কমিটি। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ সমাবেশসহ পুরো ইউনিয়নে ১৪৪ ধারা জারি করে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংর্ঘষ শুরু হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ জন মারা যান।