বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দসহ পাঁচ দফা দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব সাতটি জুট মিলের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
নগরীর খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়, আটরা-গিলাতলা এবং যশোরের নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলের খুলনা-যশোর মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ব জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের ডাকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি চলে। মঙ্গলবারের মধ্যে দাবি আদায় না হলে বুধবার সকাল ৬টা থেকে ফের সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
পাঁচদফা দাবি আদায়ে অংশ নেয়া রাষ্ট্রায়ত্ব সাতটি জুট মিল হচ্ছে খুলনার খালিশপুরের প্লাটিনাম, ক্রিসেন্ট, স্টার, ইস্টার্ন ও আলিম জুট মিল এবং যশোরের নওয়াপাড়ার যশোর জুট মিল লিমিটেড (জেজে আই) ও কার্পেটিং জুট মিল।
এদিকে, অবরোধের কারণে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খুলনার সাথে সারাদেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেসসহ সাতটি ট্রেন আটকা পড়ে। একইভাবে খুলনা-যশোর মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাসসহ বিপুলসংখ্যক যানবাহন আটকা পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। এছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগে পড়তে দেখা যায়। তবে, দুপুর ২টায় অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেয়া হলে পুনরায় খুলনার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক ও রেলপথ যোগাযোগ শুরু হয়।
অপরদিকে, বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দসহ পাঁচ দফা দাবিতে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে এ অঞ্চলের সাতটি জুট মিলের পাটপণ্য উৎপাদন সম্পূর্ণরুপে বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন সরকারি জুটমিলগুলো প্রায় ১১৫ মেট্রিকটন পাটপণ্য উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।