'রামগঞ্জ থানার ওসিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলবে'

 
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানায় এক যুবককে ধরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা চলবে মর্মে রায় ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেন। এ রায়ের ফলে রামগঞ্জ থানার ওসি লোকমান হোসেন, এসআই শরীফ ও মোমিনসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলতে আর কোনো আইনগত বাধা থাকল না বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ একেএম মনিরুজ্জামান কবির। তিনি বলেন, রায়ে হাইকোর্ট আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে।
 
রামগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম সুমন নামের এক যুবককে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে তার বাবা শামসুন নূর পাটোয়ারি লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ২০১৪ সালের ১২ আগস্ট একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট সন্ধ্যায় ওই থানার পুলিশ ব্যারাকের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে সুমনকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পাশাপাশি সিরিঞ্জ দিয়ে তার দুই চোখ নষ্ট করে দেয় রামগঞ্জ থানার তত্কালীন ওসি লোকমান হোসেন, এসআই শরীফ ও মোমিনসহ পাঁচ জন। এই নালিশি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর দায়রা জজ আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুরের ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠায়। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট দায়রা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে বলেন, সার্বিক অনুসন্ধানে, অভিযোগকারী পক্ষে উপস্থাপিত সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার ঘটনা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হয় না। ওই বছরের ২০ অক্টোবর দায়রা জজ আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করে দেয়। খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে বাদী হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করেন। ওই মামলার চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিল ঘোষণা করে মামলার কার্যক্রম চলার নির্দেশ দেয়। আদালতে আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী মোঃ ইকবাল হোসেন ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির শুনানি করেন।