রাষ্ট্রদ্রোহ, গ্যাটকো দুর্নীতি, যাত্রাবাড়ীতে পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণের দুই মামলা এবং গুলশানে নৌপরিবহন মন্ত্রীর মিছিলে পেট্রোলবোমা হামলাসহ পাঁচ মামলায় জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত একে একে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত ও মুখ্য মহানগর আদালতের পাঁচ বিচারকের সামনে হাজিরা দিয়ে জামিন আবেদন করেন বেগম জিয়া। পরে ওই ৫ মামলায়ই একে একে জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে সকাল সোয়া ৯ টায় তিনি গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে তিনি আদালতে পৌঁছেন। এদিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মামলায় জামিন চাওয়াসহ আরও ৪টি মামলায় হাজিরা দিতে বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে গমনকে কেন্দ্র করে জজকোর্ট এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হন। আদালত এলাকায় দলের চেয়ারপারসন পৌঁছানোর পর পরই নেতাকর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
যাত্রাবাড়ীর দুই মামলা:প্রথমেই যাত্রাবাড়ী থানার পেট্রোল বোমায় মানুষ পুড়িয়ে হত্যা ও দগ্ধ হওয়ার বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে জামিন পান বিএনপি চেয়ারপারসন। শুনানি শেষে মহানগর দায়রা জজ (১ নম্বর মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) কামরুল হোসেন মোল্লা তার জামিন মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা হলে ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে এক যাত্রী মারা যান। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কে এম নুরুজ্জামান গত বছরের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে যাত্রাবাড়ী থানায় দুটি মামলা করেন। মামলায় বিএনপির ১৮ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়।
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা:এ মামলার শুনানি শেষে একই ভবনের ছয় তলায় বিশেষ জজ আদালতে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। এসময় শুনানি শেষে বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এক লাখ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১৩ মে ওই মামলায় খালেদাসহ জোট সরকারের প্রভাবশালী ৯ সাবেক মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়। ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার দুটি রিট আবেদন খারিজ করে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। সে অনুয়ায়ী আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মামলাটিতে আত্মসমর্পণের জন্য তার বিরুদ্ধে সমন জারি রয়েছে।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা:গ্যাটকো শুনানির পর মুখ্য মহানগর আদালতে নাশকতার আরো দুটি এবং রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন জানালে মহানগর হাকিম রাশেদুল তালুকদার উল্লিখিত মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গত ২৫ জানুয়ারি ঢাকা সিএমএম আদালতে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় ৩ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে সমন দেয়া হয়। কিন্তু ওইদিন তার পক্ষে সময় চাওয়ায় ১০ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির হতে সমন প্রদান করেন আদালত।
গুলশানে বোমা মামলা: গুলশানে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন জানালে আদালত বেগম জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন। ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কায়সার উল ইসলাম মামলার শুনানি শেষে এ জামিন মঞ্জুর করেন। এসময় খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন।