জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে 'মেরুদণ্ডহীন ও বেসরম' উল্লেখ করে বলেছেন, 'এই কমিশন বিএনপি আমলের আজিজ মার্কা কমিশনের চেয়েও খারাপ। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে এতো লোক মারা যাওয়ার নজির অতীতে নেই। অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন রাতে কোন সিল মারার ঘটনা ঘটেনি। তার মানে দিনে সিল মারা হয়েছে।'
বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন। শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা জাপার সভাপতি এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ্।
তিনি নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই লোককে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ভোট দিতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরছে মানুষ। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। মানুষ মরছে প্রতিনিয়ত, দেশের মানুষ স্বাভাবিক জীবন চায়, সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, মানুষ পরিবর্তন চায়, দুঃসহ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চায়। আর জাতীয় পার্টিই মানুষকে শান্তি ফিরিয়ে দিতে পারে। এ জন্য সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে।
পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন টাকা ছাড়া কোন চাকরি মেলে না। মেধার কোন মূল্য নেই। চাকুরি পেতে হলে আওয়ামী লীগ হতে হবে আবার টাকাও থাকতে হবে। পুলিশ কন্সটেবলে ১০ লাখ আর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ১৫ লাখ টাকা লাগে। এ কারণে শিক্ষিত বেকার যুবকরা মাদকাসক্ত হচ্ছে। এখন সব জায়গা অর্থের দখলে চলে গেছে।
তনু হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, তনুর লাশ দু’বার উত্তোলন করা হলো, কিছুই নাকি পাওয়া যায়নি, কয়েকদিন পর হয়তো বলবে তনু নামে কোন মেয়েই ছিল না, এটা মিডিয়ার সৃষ্টি। মানুষ সত্য কথা বলতে পারছে না, বিচার পচ্ছে না। সবচেয়ে সস্তা মানুষের জীবন। এভাবে দেশ চলতে পারে না। মানুষ পরিবর্তন চায়, শান্তি চায়।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি হারিয়ে যায়নি। যেখানেই যাচ্ছি মানুষের ঢল দেখছি। মানুষ পরিবর্তন চাচ্ছে। এ জন্য জাতীয় পার্টির প্রয়োজন। বগুড়া ও রংপুরে পার্টির অবস্থান খুব শক্তিশালী। এসব এলাকার আসনগুলো পুণরুদ্ধার করা গেলে আবারো জাপা ক্ষমতায় যাবে। তবে তার জন্য সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজন।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আগামি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ থাকবে। আর কেউ থাকবে না। সেক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাপা ক্ষমতায় যাবে। জাপার বাক্সে জায়গা থাকবে না। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠন শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর এমপি, এড. আলতাফ আলী এমপি, এড. নুরুল ইসলাম তালুকদার এমপি প্রমুখ।
সম্মেলনে পুনঃরায় শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে সভাপতি, নুরুল ইসলাম ওমরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষনা করেন জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ। এর আগে বেলা পৌনে ১২ টায় বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ।
এ দিকে সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আলতাফ আলী এমপি বক্তব্য দিতে গেলে গাবতলী ও শাজাহানপুর এলাকার নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তাকে বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানান।