শরণখোলায় ‘সিইআইপি’ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ফসলি জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেওয়ারও। আর এ অভিযোগ একটি চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র জমির মালিক দাবি করে চায়নাদের কাছে মাটি বিক্রি করে দেয়। মূল মালিকপক্ষ নিষেধাজ্ঞার কাগজপত্র দেখিয়ে মাটি কাটতে বাধা দেয়। তারপরও ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকেরা মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে।
তিন দশমিক ৩৩ একর জমির মধ্য থেকে ইতিমধ্যে প্রায় এক একর জমির মাটি কেটে নিয়েছে। উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে চলছে এই মাটি কাটা।
অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের আ. কুদ্দুস খানের ছেলে মো. মেহেদী হাসান খান দোহা। তার অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দক্ষিণ কদমতলা পোস্টঅফিস পাড়ায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এক্সক্যাভেটর দিয়ে বিশাল এক পুকুর খনন করা হয়েছে। প্রায় এক একর জমিতে ১২ ফুট গভীর করে ওই মাটি কাটা হয়েছে।
৯নম্বর রায়েন্দা মৌজায় ছয়টি খতিয়ানের ১১টি দাগে দোহার ১০ দশমিক সাত একর জমি রয়েছে। ওই জমি থেকে দক্ষিণ কদমতলা এলাকার আলিমুল মোল্লা, শাহ আলম মোল্লা ও সরোয়ার মোল্লা গ্রুপ জমির মালিক সেজে সাড়ে তিন একর জমির মাটি চায়না ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেয়। এ ব্যাপারে জমির মালিক প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তাতে কাজ না হওয়ায় গত ৬ মার্চ বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আদালত নালিশি জমিতে ফৌজদারী কার্যবিধি-১৪৪ ধারা জারি করে উভয় পক্ষকে আগামী ৩০/০৪/২০১৯ তারিখ বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে।
এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষের মো. সরোয়ার মোল্লা জানান, ওয়ারিশ সূত্রে ওই জমির মালিক হওয়ায় চায়না ঠিকাদারের কাছে মাটি বিক্রি করেছেন তারা। আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানান, এ ব্যাপারে আদালতেই তারা জবাব দেবেন।
‘সিইআইপি’ প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলী শ্যামল দত্ত বলেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আদলত এবং জমির মালিকের ব্যাপার। তারপরও আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ দিলীপ কুমার সরকার বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার নোটিশ বিবাদীদের কাছে জারি করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা কেউ অমান্য করতে পারে না। বাদীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিবাদিদের হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়েছিলো। সমাধান না হওয়ায় বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন।
আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ
সিইআইপি প্রকল্পের খুলনা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম মুঠোফোনে বলেন, মামলার বিষয়টি জেনে তিনি উভয় পক্ষকে বসে মিমাংশা ও মাটি কাটা বন্ধের জন্য মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু