সন্দেহের তালিকায় থাকা ইসলামী জঙ্গিদের হাতে একের পর এক সেক্যুলার ব্লগার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের উদাসীনতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার ঢাকায় অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী নাজিম উদ্দিন সামাদকে গুলি করে হত্যা করে ইসলামী চরমপন্থীরা। এতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মূল ফটকের সামনে, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরপর দুপুরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শুক্রবারের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে শনিবার রাত ১২টার মধ্যে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হলে ছাত্রধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্লগার হত্যার আগের ঘটনাগুলোতে পুলিশ উদাসীন ছিলো বলেই সামাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সভাপতি কবির চৌধুরী তন্ময় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মেধাবী তরুণরা একের পর এক খুন হয়েই চলেছেন। কিন্তু হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
৬ এপ্রিল রাত সোয়া ৮টার দিকে চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে সামাদের ওপর চড়াও হয়। এরপর তাকে কুপিয়ে এবং গুলি করে ফেলে রেখে চলে যায়।
এ নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয়জন অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, ব্লগার, লেখক ও প্রকাশককে হত্যা করা হলো। এদের সবাইকে একই কায়দায় কোপানো হয়েছে।
নাজিমুদ্দিন সামাদ একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ছিলেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, ধর্মীয় বিষয়ে লেখালেখির জন্য উগ্রবাদীরাই তার তাকে হত্যা করে থাকতে পারেন। তিনি সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ছিলেন। দুই মাস আগে সিলেট থেকে ঢাকায় আসেন নাজিম উদ্দিন। গেন্ডারিয়ার একটি ম্যাচে বন্ধুদের সঙ্গে থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে সান্ধ্যকালীন এলএলএমে কোর্সে পড়াশোনা করতেন। বিবিসি।