রেহানা আক্তার হত্যাকাণ্ড : বছরাধিককাল পরও আসামি মেলেনি

 
প্রায় বছরাধিক কাল চলে যাবার পরও চাঞ্চল্যকর গৃহবধু রেহানা হত্যা মামলার কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৫ সালের ৫ মার্চ দিবাগত রাতে নরসিংদী সদর উপজেলার আনৈইবাড়ী গ্রামে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।
 
একই এলাকার ভূইয়ম গ্রামের বাসিন্দা নিহত রেহানা আক্তার (৩৫) এর পিতা আব্দুল কুদ্দুস ঘটনার দুই দিন পর ৭ মার্চ নরসিংদী মডেল থানায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। (মামলা নং ২২, তারিখ ৭/৩/২০১৫)। এতে আসামি করা হয়েছে তার মেয়ের জামাইর ছোট ভাই মোমেন (৩৮), রাকিবুল ইসলাম (৩২), নিলুফা বেগম (৩৮), আলফাজ উদ্দিন (৫০)সহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে।
 
মামলার এজাহারে আব্দুল কুদ্দুস জানান, প্রায় ১৪/১৫ বছর পূর্বে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক সোহেল আহমেদ ওরফে খোকা মিয়ার সাথে তার মেয়ে রেহানা আক্তারের বিয়ে হয়। বিবাহিত জীবনে কোন সন্তানাদি না হওয়ায় বাড়ীর লোকজন প্রায় সময়ই মেয়ের সাথে দুর্ব্যবহার করতো। এ অবস্থায় তার স্বামী আমার মেয়ের নামে প্রায় চার শতাংশ জমি লিখে দেয়। মেয়ের নামে জমি লিখে দেয়ার পর থেকে স্বামীর বাড়ীর লোকজন অত্যাচারের মাত্রা দ্বিগুর বাড়িয়ে দেয়। আমার মেয়ের জামাই তার নিজ বাড়ী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পাকুরিয়া বাজারে মুদি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।
 
ঘটনার দিন রাত অনুমান সাড়ে দশটায় আমার মেয়ে পাশ্ববর্তী তার ননাশের জামাইর বাড়ী থেকে টিভি দেখে তাকে নিয়ে বাড়ীতে আসে। ওই দিন রাত সাড়ে ১১ টায় আমার মেয়ের জামাই সোহেল আহমেদ ওরফে খোকা মিয়া দোকান থেকে বাড়ীতে এসে ঘরে প্রবেশ করে আমার মেয়ে রেহানা আক্তারের গলাকাটা নৃশংস ও রক্তাক্ত লাশ ঘরের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে। গভীর রাতে আমাকে আমার মেয়ের বাড়ীর এলাকার লোকজন টেলিফোনের মাধ্যমে এ ঘটনা অবহিত করে। সংবাদ পেয়ে আমি ও আমার আত্মীয়-স্বজনসহ দ্রুত তাদের বাড়ীতে যায়। আমরা রেহানা আক্তারের ঘরে তাহার গলাকাটা হাত ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য জখম দেখতে পাই। জমি জমা এবং পারিবারিক শত্র“তার কারণে উল্লেখিত ব্যক্তিরা আমার মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
 
এ ছাড়াও আমার মেয়ের ঘরে রক্ষিত আট ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও এক লক্ষ টাকা আসামিরা নিয়ে যায়। আমার ধারণা রাত অনুমান সাড়ে দশটা হইতে সাড়ে এগারোটার মধ্যে যে কোন সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্রদ্বারা আমার মেয়েকে গলা জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নরসিংদী থানায় মামলা দায়ের করার পর মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় এসআই হাফিজুর রহমানকে। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাসেও এসআই হাফিজুর রহমান কোন আসামীকে গ্রেফতার না করায় বাদী পক্ষ নরসিংদী পুলিশ সুপারের বরাবর হাফিজুরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করলে পুলিশ সুপার আমেনা বেগম মামলাটি সিআইডি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডির দারোগা হেদায়েতও এব্যাপারে তেমন কোন তৎপরতা দেখা দেখাচ্ছেন না। এতে বাদী পক্ষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
 
পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার না করায় মেয়ের পিতা আব্দুল কুদ্দুস ও তার আত্মীয়-স্বজনরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের জন্য নরসিংদী পুলিশ সুপারসহ উর্ধতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।