রাজধানীতে বৈশাখী কেনাকাটার ধুম

খুব কাছাকাছি সময়ে ঈদ বা পূজা নেই। কিন্তু শাড়ির দোকানে, বিভিন্ন বুটিক বা ডিজাইনারস হাউজগুলোতে এত ভিড় কেন! দেশীয় পোশাক প্রতিষ্ঠান প্রাইডের ধানমন্ডি শাখার বিক্রয় প্রতিনিধি আরিফুর রহমান বললেন, ঈদের পরে বৈশাখেই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। তাই এই ভিড়। ফ্যাশন হাউজগুলোও মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বৈশাখী ডিজাইনকেন্দ্রিক পোশাক তৈরি করেন। শাড়ি ও পাঞ্জাবি আসে নতুন নতুন ডিজাইনের। 
 
রাজধানীর  পোশাকের  দোকানগুলোতে মানুষের ভিড়, লাল সাদা পোশাকের বিচ্ছুরণ-বুঝতে কষ্ট হয় না বৈশাখী আয়োজনে ভরে উঠেছে বুটিক হাউজগুলো। নতুন ডিজাইন, রঙের নিরীক্ষা—সবকিছুই চোখে পড়ছে এবারের বৈশাখী পোশাকের আয়োজনে। ক্রেতারাও বৈশাখী সাজে নিজেকে সাজাতে ঘুরছেন দোকানে দোকানে পছন্দের পোশাকটি খুঁজে নিতে। বেশ কয়েক বছর ধরেই ঈদ বা পূজার পরেই বৈশাখ যেন সর্বজনীন উত্সবের আমেজ নিয়ে উপস্থিত হয় জাতির সামনে। 
 
গতকাল ছুটির দিনে তাই বসুন্ধরা শপিং মলসহ বিভিন্ন বিপণি বিতান ও বুটিক হাউজে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বারিধারার বাসিন্দা রুবাইয়াত ফাতেমী স্বামী আবদুল্লাহ ফাতেমীকে নিয়ে শাড়ি কিনতে এসেছেন বসুন্ধরা শপিং মলে। তিনি বললেন, বৈশাখে উত্সবে মেতে ওঠা, বাসায় ভাল কিছু রান্না করা এখন একটা সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। তাই নতুন ও রঙিন পোশাক কেনাটা উত্সব পালনের জন্য যেন একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 
পহেলা বৈশাখে শাড়ি বা পাঞ্জাবি যাই হোক না কেন ক্রেতার প্রথম আকর্ষণ থাকে লাল সাদা কম্বিনেশনের দিকে। আর সাদা বা ঘিয়ে গরদে টকটকে লাল পাড়ের শাড়ি পরা যেন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। আর ছেলেদের জন্য গিলে করা সিল্কের পাঞ্জাবি। তবে হাল ফ্যাশনে শুধু সাদা লালে আটকে নেই পোশাকের রঙ। বরং ট্র্যাডিশনাল রঙের বাইরে গিয়ে উত্সবকে প্রতিনিধিত্ব করে এমন রঙকেই বেছে নিচ্ছেন ক্রেতারা। অঞ্জনস-এর স্বত্বাধিকারী শাহীন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, বৈশাখে এখন প্রতিটি ফ্যাশন হাউজ নতুন নতুন থিম নিয়ে কাজ করে থাকে। তবে ফোক মোটিফ বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
 
দেশীয় পোশাক প্রতিষ্ঠান ‘আড়ং’ এ এবারের বৈশাখী কালেকশনে চোখে পড়লো উত্সবভিত্তিক উজ্জ্বল রঙ-এর ব্যবহার। লাল- সাদা  তো রয়েছেই, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কমলা, হলুদ আর নীল। সেই সঙ্গে পাঞ্জাবি আর শাড়িতে কাটওয়ার্ক আর অ্যাপ্লিকের সঙ্গে এমব্রয়ডারির হাতের নকশাও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বৈশাখী আয়োজনে। ধানমন্ডির সায়েন্স ল্যাবরেটরির আড়ং আউটলেটের সুপারভাইজার রেহানা আক্তার বললেন, বৈশাখে এখন আর শুধু লাল-সাদা রঙের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; তাই আমরা অরেঞ্জ, হলুদ, নীলসহ অন্য রঙগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। শাড়ির দাম পড়ছে—৬০০০টাকা থেকে ২২০০০টাকা। পাঞ্জাবির দাম পড়ছে ১২০০টাকা থেকে ১৭০০টাকার মধ্যে। আর সিল্কের পাঞ্জবি পাওয়া যাচ্ছে ২৫০০টাকা থেকে ৭০০০টাকায়।
 
তবে ফ্যাশন হাউজগুলোতে বিক্রি বাড়লেও শাড়ির বড় বাজার ধানমন্ডি হকার্সের দোকানিরা আক্ষেপ করে বলেন, বেচাকেনা একদম ভালো নয়। বাচ্চাদের জন্যে কেনাকাটা করছেন কেবল অভিভাবকরা। তবে বৈশাখের শেষ সপ্তাহে এসে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
 
দোয়েল শাড়িস এর বিক্রেতা সোহেল বললেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না; গত বছরের পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে নারী নির্যাতনের একটা প্রভাব পড়েছে এ বৈশাখে। মানুষের মনে একটা ভীতি কাজ করছে। যার কারণে এ বছর হরতাল-অবরোধ না থাকার পরেও বেচাকেনা কম।