‘চিত্ত জাগুক গানে গীতে কাব্যে কথায়’

 
 
বাংলা ১৪২৩ সমাগত। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে বৈশাখী অনুষ্ঠানমালা। ‘চিত্ত জাগুক গানে গীতে কাব্যে কথায়’—এই শ্লোগানে চৈত্র সংক্রান্তির দিন পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান। পাঁচদিনের অনুষ্ঠানামালায় একেক দিন থাকছে রবীন্দ্রনাথ, তিন কবির গান, রাগাশ্রয়ী, লোক ও উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের সুরসুধায় ভরপুর আয়োজন।
 
শনিবার থেকে শুরু হয়েছে অনুষ্ঠানমালা। প্রথম দিনের সকালটি ছিল শিশুদের আয়োজন। সকালে গান আর কার্টুন প্রদর্শনী উপভোগ করে সময় কাটিয়েছে। গান গেয়ে শোনান সিলেটের সংগঠন গীতবিতান বাংলাদেশের শিশু শিল্পীরা। তারা গাইছিল তরুণ মজুমদারের ‘এসো প্রাণ ভরানো’ এই গানটি। একে একে গেয়ে শোনালো দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘আজি নূতন রতনে’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমি ভাই ক্ষ্যাপা বাঊল আমার দেঊল’, মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘রেখো মা দাসিরে মনে’, রজনীকান্ত সেনের ‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড়’,  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এই কথাটা ধরে রাখিস’ গানের সমন্বয়ে তাদের কোরাস পরিবেশনা। এর পর ছিল ছড়াপাঠ। ‘ওপেন্টি বায়োস্কোপ’ থেকে শুরু করে ‘আম পাতা জোড়া জোড়া’, ‘আইকম বাইকম তাড়াতাড়ি’ সহ বেশ কিছু প্রচলিত ছড়া পাঠ করে উপস্থিত শ্রোতা-দর্শকদের মধ্যে মুগ্ধতা ছড়ায় সিলেটের সংগঠন গীতবিতান বাংলাদেশ। আরও ছিল মেপ্ল লীফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিশুশিল্পীদের পরিবেশনা। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশু-শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে শুরুতেই গাইল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আলো আমার আলো’। এর পর তারা পরিবেশন করে ‘এই বাংলা রবি ঠাকুরের গান’, ‘ধিন ধিন তাক ধিনা ধিন’ সহ কিছু গান। ‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্দ ছায়ায়’, ‘হলুদ গাঁদার ফুল’ গানের সাথে সমবেত নাচের মাধ্যমে নববর্ষকে স্বাগত জানাল শিশুশিল্পীরা।
 
দ্বিতীয় পর্বে ছিল পাপেট শো। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের বাংলাদেশ পুতুল নাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে এই পর্বটি শিশু-কিশোরদের মধ্যে বেশ আলোড়িত করে। ড. রশীদ হারুনের পরিচালনায় মুনীর চৌধুরী রচনা অবলম্বনে ‘কুপোকাত’, জসীম উদ্দীনের ‘টোনাটুনি’ ও উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর ‘নাককাটা রাজার’ উপস্থাপনা শিশুদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল তপ্তবেলা কিছুটা সময়। পুরো আয়োজনটি বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হলেও তাদের প্রকাশনা ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ সহযোগিতা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল গ্যালারি মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।
সন্ধ্যায় ছিল প্রথম দিনের  দ্বিতীয় অধিবেশন। এই অধিবেশনটি সাজানো হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের গান দিয়ে। যেখানে একের পর এক নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন খায়রুল আনাম শাকিল, ইয়াকুব আলী খান, নাসিমা শাহীন, শারমিন সাথী ইসলাম, চম্পা বণিক, শহিদ কবির পলাশ, লতিফুন জুলিও, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, মোহাম্মদ শোয়েব। সঞ্চালনায় ছিলেন ইকবাল বাহার চৌধুরী।

অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিন আজ রবিবার তৃতীয় অধিবেশন সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন পর্যায়েল গান দিয়ে। এদিন গাইবেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, বুলবুল ইসলাম, শামা রহমান, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, মহিউজ্জামান চৌধুরী, অদিতি মহসিন, লাইসা আহমদ লিসা, সেমন্তী মঞ্জরী, ফারহিন নুসরাত জয়িতা, সৈকত মজুমদার, নির্ঝর চৌধুরী। উপস্থাপনা করবেন বাকশিল্পী হাসান আরিফ। অনুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত।