উধাও হওয়ার ৩ দিন পর সেই মার্সিডিজ বেঞ্জ কার আটক

 
অবশেষে আম্বরখানা বিএম টাওয়ারের মালিকের ব্যবহৃত সেই মার্সিডিজ বেঞ্জ কার উধাও হওয়ার ৩ দিন পর আটক করা হয়েছে। কার নেট সুবিধার আওতায় গাড়িটি দেশে এনে শুল্ক ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে গাড়িটি আটক করা হয়েছে। শুল্কসহ গাড়িটির মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। বর্তমানে গাড়িটি কাস্টমস গোয়েন্দা সেলের হেফাজতে রয়েছে।
 
এনবিআর-এর শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সিলেটর সহকারী পরিচালক প্রভাত কুমার সিংহ জানান, গত শনিবার রাত ১২টায় সিলেট নগরীর আম্বরখানা বিএম টাওয়ারের গ্যারেজ থেকে গাড়িটি  উদ্ধার করা হয়। গাড়িটির বর্তমান মালিক যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল মালিকের গ্যারেজ (ই-১২, বিএম টাওয়ার, আম্বরখানা) থেকে এটির উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার সকালে গাড়ীটি উদ্ধারের অভিযান চালানো হয়। তখন গাড়িটি সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে পুলিম ও গোয়েন্দারা এই গাড়ী উদ্ধারে নামে।
 
সংশ্লিষ্টরা জানান, সারা দেশে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সিলেটেও কর ফাঁকি দিয়ে আনা গাড়ির খোঁজে নামে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক, ড. মইনুল খান স্থানীয় কর্মকর্তাদের সিলেটের আম্বরখানার বিএম টাওয়ারে পার্কিংয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মুল্যে মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি (ঢাকা-৬১৪/ও) রয়েছে বলে তথ্য দেন।
 
মহাপরিচালকের নির্দেশনায় শুক্রবার সকালে সেখানে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু, বিষয়টি আচ করতে পেরে গাড়ির মালিক সেখান থেকে গাড়িটি সরিয়ে ফেলেন। প্রভাত সিংহ জানান, কারনেট সুবিধার আওতায় কাস্টমস ডিউটি ছাড়াই ২০১২ সালে গাড়িটি যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। কিন্তু, নির্ধারিত সময়ে গাড়িটি ফেরত দেয়া হয়নি। কারনেট সুবিধার আওতায় বিদেশি কোন গাড়ি নিয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য শুল্ক ছাড়া দেশে প্রবেশের বিধান রয়েছে। তবে ঐ মেয়াদের মধ্যেই পুনরায় গাড়িটি নিয়ে দেশ ত্যাগ করতে হবে।
 
মূলত প্রবাসীদের কারনেট সুবিধা দেয়া হয়। প্রভাত কুমার আরো জানান, মালিক গাড়িটি ফিরিয়ে না দিয়ে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। গোপনে খবর পেয়ে কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স শুক্রবার সকালে গাড়ির মালিকের বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে গাড়িটি না  পেয়ে আরো বিভিন্ন স্থানেও অভিযান চালানো হয়। অবশেষে শনিবার রাতে গাড়ির মালিকের বাসা থেকেই গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
 
২০০৬ সালের এই গাড়িটি মডেল সিডিআই এলিগেন্স, সিসি ১৯৮০। গাড়ির মালিক আব্দুল মালিক এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এনবিআর-সব ধরণের রুলস অনুসরণ করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রভাত কুমার সিংহ। প্রভাত জানান, চারকোটি মূল্যের এ গাড়িটির শুল্ক হচ্ছে প্রায় এক কোটি টাকা।