গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্দা, পাতা খেলা, লাঠি খেলা, মোরগ লড়াই, কানামাছি, বৌচি ইত্যাদি গ্রামীন খেলাধুলার সঙ্গে আমাদের তরুণ প্রজন্ম কমই পরিচিত। কম্পিউটার আর মোবাইলের যুগ নতুন প্রজন্মকে গ্রামীন খেলাবিমুখ করেছে। যার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে এইসব গ্রামীন খেলাগুলো।
তবে এই খেলাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে ও তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন। তাদের মধ্যে অন্যতম বগুড়া থিয়েটার। ১৯৮১ সাল থেকে তারা নিয়মিত আয়োজন করছে গ্রামীন ক্রীড়া উৎসব।
পহেলা বৈশাখের মেলা উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় এটি। যথারীতি এ বছরও বগুড়ার পৌর পার্কে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এই গ্রামীন ক্রীড়া উৎসব-১৪২৩। আর এবারের এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক্যাল ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও টেলিকমিউনিকেশন পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপ।
১৪ এপ্রিল শুরু হয়ে ৫দিন ব্যাপী এই প্রতিযোগিতা ১৮ এপ্রিল শেষ হবে। ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপণী অনুষ্ঠান।
এ বিষয়ে সোমবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), ওয়ালটন গ্রুপের স্পোর্টস এন্ড ওয়েলফেয়ার বিভাগের এজিএম মেহরাব হোসেন আসিফ। উপস্থিত ছিলেন বগুড়া থিয়েটারের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার হোসাইন সোহাগ ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার জাতীয় পর্ষদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শামীম আহসান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্দা, পাতা খেলা, লাঠি খেলা, মোরগ লড়াই, কানামাছি, হাডুডু, ঘুড়ি উড়ানো, সাপ খেলা, বৌচিসহ বিভিন্ন গ্রামীন খেলাগুলো পাঁচদিন ব্যাপী আয়োজন করা হবে। প্রতিদিন তিনটি করে খেলার প্রদর্শনী হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এক বক্তব্যে এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার বলেন, ‘ওয়লটন গ্রুপ কেবল ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা হকিতেই পৃষ্ঠপোষকতা করে না। তৃণমূল পর্যায়ের গ্রামীন খেলাধুলায়ও পৃষ্ঠপোষকতা করে। আমরা আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মূল খুঁজে বের করতে চাই। তরুণ প্রজন্মকে জানাতে চাই আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা। সে কারণে আসন্ন পহেলা বৈশাখে শুরু হতে যাওয়া গ্রামীন ক্রীড়া উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি। ৫দিন ব্যাপী এই আয়োজনে আমাদের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন গ্রামীন খেলাধুলাগুলো প্রদর্শন করা হবে। এই আয়োজনের পাশাপাশি বগুড়ায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য যারা বিখ্যাত তাদেরকে ওয়ালটনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধিত করা হবে।’
বগুড়া থিয়েটারের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার হোসাইন সোহাগ বলেন, ‘১৯৮১ সাল থেকে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী মেলা। গেল ৩৫ বছর ধরে এই মেলয়া বিভিন্ন গ্রামীন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। যার মূল উদ্দেশ্য সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রিত করা ও তাদেরকে বিলুপ্ত প্রায় গ্রামীন খেলাধুলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। প্রতি বছর এই আয়োজনে আমরা গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্দা, পাতা খেলা, লাঠি খেলা, মোরগ লড়াই, কানামাছি, হাডুডু, ঘুড়ি উড়ানো, সাপ খেলা, বৌচিসহ বিভিন্ন গ্রামীন খেলাগুলোর আয়োজন করি। এই আয়োজনে এবার ওয়ালটন গ্রুপ পৃষ্ঠপোষকতা করতে এগিয়ে আসায় তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার জাতীয় পর্ষদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শামীম আহসান গ্রামীন খেলাধুলাগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও এর আবেদনের বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি এই আয়োজনের সঙ্গে ওয়ালটন গ্রুপ সম্পৃক্ত হওয়ায় ওয়ালটন পরিবারের সকলকে তিনি ধন্যবাদ জানান।