মোরেলগঞ্জে শিশু চুরির ৬ দিন পর লাশ উদ্ধার, মূল হোতাসহ আটক ৬

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বিশারীঘাটা গ্রামে জানালার গ্রিল খুলে মা-বাবার কোল থেকে আড়াই মাসের অসুস্থ শিশু আব্দুল্লাহ চুরি হয় ৬ দিন আগে। রবিবার দুপুরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

আটক এ চক্রের মূল হোতা হৃদয় চাপরাশির (২২) স্বীকারোক্তি মতে বাগেরহাট ও মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ বিশারীঘাটা গ্রামের রহমান শিকারীর মৎস্য ঘেরের একটি পায়খানার ভিতর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আটক হৃদয় চাপরাশি শিশু চুরি ও হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। হৃদয়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সোহাগ হাওলাদারের বাড়ির কাছে একই গ্রামের রহমান শিকারীর মৎস্য ঘেরের পায়খানার ভিতর থেকে গামছা পেঁচানো অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোরেলগঞ্জ সার্কেল মো.রিয়াজুল ইসলাম, মোরেলগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. কামরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজবাহ উদ্দিন, থানা অফিসার ইন চার্জ কেএম আজিজুল ইসলাম, ডিবি পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিমসহ মোরেলগঞ্জ থানা ও জেলা ডিবি পুলিশের বিশাল টিম উপস্থিত ছিলে।

দলিল লেখক সোহাগ হাওলাদারের পুত্র আব্দুল্লাহকে রবিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে জানালার গ্রিল খুলে ঘুমন্ত মা-বাবার বিছানা থেকে একটি মোবাইল ফোনসহ চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে মোবাইল ফোনে দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ঘটনার পর থেকে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ, বাগেরহাট পিবিআই ও ডিবি পুলিশের কয়েকটি টিম শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযানে নামে। 

১৬ মার্চ শিশু চুরির মূল হোতা হৃদয় চাপরাশিকে ঢাকার কল্যানপুর থেকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে হৃদয়ের মা নাছিমা বেগম (৫২) ও বোন আবির আক্তার (১৪), হৃদয়ের চাচাতো ভাই সোবাহান চাপরাশীর ছেলে মহিউদ্দিন চাপরাশি (৩৫) ও রশিদ চাপরাশির ছেলে ফায়জুল চাপরাশি (২৫) সহ ৬ জনকে আটক করা হয়। সেইসাথে বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হৃদয় চাপরাশির সুসজ্জিত কক্ষের মাটি খুড়ে চেতনা নাশক স্প্রে, গ্যাস কাটার, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, গ্যাস পাইপ, গ্যাস সিলিন্ডারসহ দুর্ধর্ষ চুরির কাজে ব্যবহৃত অনেক মালামাল উদ্ধার করে।

আরও পড়ুনঃ জাতির পিতার জন্মদিনে টুঙ্গিপাড়া, ধানমন্ডি ৩২ ও জাতীয় প্রেসক্লাবে তথ্যমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

আটক হৃদয় চাপরাশিসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে হৃদয়ের আত্মীয় স্বজনসহ এলাকাবাসী।

ইত্তেফাক/নূহু