নানা আয়োজনে বর্ষবরণে মেতে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে তরুণ-তরুণীদের বর্ণিল সাজে ক্যাম্পাসে ঢল নামে। অনেকেই গালে আল্পনা, খোঁপায় ফুল, কপালে টিপ কেউ আবার মাথায় গামছা বেঁধে ঘুরছেন। আর ঢাক-ঢোলের বাজনায় মেতে উঠেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী এলাকা ও স্কুল-কলেজ থেকে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকেও প্রিয়জনদের সঙ্গে ক্যাম্পাসে আসতে দেখা গেছে।
সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল বিভাগের অংশগ্রহণে শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন। শোভাযাত্রায় প্ল্যাকার্ড, বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মুখোশ, গরু-মহিষের গাড়ি, পালকি, ঢাক-ঢোলসহ বিভিন্ন লোকজ সরঞ্জাম। এছাড়া অনেকেই গ্রাম-বাংলার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সাজে নিজেকে সজ্জিত করে শোভাযাত্রায় আসে। এদের মধ্যে কেউ কৃষক, কেউ জেলে, কেউ শিকারি, মোড়ল, বর-বউ, সাপুড়ে, নাপিত ইত্যাদি। এর আগে ভোরে শহীদ মিনার মুক্তমঞ্চে সূর্যকে বরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোট। বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ বরণ করতে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢোল ও বাঁশি বাজাতে থাকে সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীরা।
প্রতিবারে মতো এবারেও পহেলা বৈশাখের মূল আয়োজনে চারুকলা অনুষদ দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে। মেলা চলাকালে বিভিন্ন লোকজ সঙ্গীত, নৃত্য, নাটকসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিকে বিভিন্ন বিভাগও আলাদাভাবে নতুন বর্ষ উদযাপনে আয়োজন করেছে।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফোকলোর চত্বরে বাংলাদেশ ফোকলোর গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে গুণীজন সংবর্ধনা ও বর্ষবরণের আয়োজন করা হয়। সেখানে ঢাকা উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের সামনে ভূত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের মাঝে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের সামনে গণিত বিভাগ, একই স্থানে মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ইসমাঈল হোসেন সিরজী ভবনের সামনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ডিনস ভবনের সামনে ভাষা বিভাগ, ডিনস ভবনের উত্তর দিকে লোক প্রশাসন বিভাগ, রবীন্দ্র কলা ভবনের সামনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগসহ আরও অনেক বিভাগ নতুনবর্ষ উদযাপনের আয়োজন করেছে।