পাকিস্তানে চোট্টু গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সিন্ধু নদের একটি দ্বীপে ২৪ পুলিশকে জিম্মি করে রাখা একটি অপরাধী দলের সঙ্গে ১০ দিন ধরে লড়াই করছে দেশটির পুলিশ ও সহযোগী বাহিনীগুলো। তাদের দমন করতে পুলিশের পাশাপাশি এখন সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করা হয়েছে। 
 
তথাকথিত চোট্টু গ্যাং-এর সঙ্গে চলা এ লড়াইয়ে এ পর্যন্ত অন্ততপক্ষে ছয়জন পুলিশ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি ও দ্য ডন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোট্টু গ্যাং কয়েকশত অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করেছে বলে অভিযোগ আছে। 
 
অপরাধী দলটির নেতা গুলাম রাসুল ওরফে চোট্টু শুক্রবার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছেন, তার দল পুলিশের কাছে না, সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে, কারণ সেনাবাহিনীকে ‘শ্রদ্ধা’ করে তারা। তবে তাদের আত্মসমর্পণ গ্রহণ করা হবে না বলে জানা গেছে। 
 
দলটির বিরুদ্ধে অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর এক হাজার ৫০০ সদস্যকে নিয়োগ করা হয়েছে। নজিরবিহীন এই অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপ মোতায়েনের কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী। পাঞ্জাবের আইনমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ বলেছেন, অপরাধী দলটির কাউকেই পালিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। অপরাধীদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা না করার বিষয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা একমত হয়েছেন। তাদের হয় আত্মসমর্পণ করতে হবে অথবা পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যেতে হবে।
 
অজ্ঞাত এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে ডন সংবাদপত্র জানিয়েছে, দ্বীপটিতে আক্রমণ চালানোর মতো নৌকা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় রসদের অভাব আছে পুলিশের। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা দুটি নৌকা নিয়ে আমরা অভিযানে নামি, কিন্তু হামলার শিকার হই।
 
সিন্ধু নদের যে দ্বীপটিতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে তা ঘনবনে আচ্ছদিত। সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমান্তের নিকটবর্তী কাচি মুরো নামের এই এলাকটি সিন্ধু নদের তীরবর্তী রাজনপুর ও রহিম ইয়ার খান জেলার মাঝে অবস্থিত। ঔপনিবেশিক সময় থেকে এলাকাটি ডাকাত ও বিদ্রোহীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে জানা গেছে।
 
১০ হাজার মানুষ অধ্যুষিত এলাকাটিতে চোট্টু তার বাহিনী নিয়ে নিরাপদ আস্তানা গড়ে তোলে। স্থানীয়ভাবে কোনো অপরাধ না করায় এবং এলাকাবাসীকে সহায়তা করায় স্থানীয় লোকজনের সমর্থন পেয়ে আসছেন চোট্টু। করাচি, লাহোরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনকে অপহরণ করে এখানে আটক করে রাখে চোট্টুর দল।
 
পরে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় মানুষের সমর্থনের কারণে পুলিশের এক সময়ের ইনফর্মার চোট্টু বিষয়ে কোনো তথ্য সংগ্রহে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। পাশাপাশি একই কারণে চোট্টুর আস্তানা এলাকায় পুলিশের প্রবেশ অসাধ্য হয়ে ছিল। ডন ও বিবিসি।