শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জাকারিয়া ভূঁইয়া (৩৪) মারা গেছেন বলে দাবি করছেন তার পরিবার। জাকারিয়া ক্রাইস্টচার্চে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের ওয়েল্ডার টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি জুমার নামাজ পড়তে আল নূর মসজিদে গিয়ে ছিলেন।
জাকারিয়া ভূঁইয়া পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামের আব্দুল বাতেন ভূঁইয়ার ছেলে। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে জাকারিয়া ছিলেন ৪র্থ। বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হওয়ার খবর পরিবারের কাছে পৌঁছালে পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো গ্রাম জুড়ে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে জয়পুরা গ্রাম।
জানা যায়, নিহত জাকারিয়া প্রায় আড়াই বছর আগে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে পাড়ি দেন। সেখানে তিনি একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের ওয়েল্ডার টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ ৮ বছর সিঙ্গাপুরে কর্মরত ছিলেন। সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায়ই জাকারিয়া নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন।
আরো পড়ুন: তামিমের মুখে ক্রাইস্টচার্চ হামলার লোমহর্ষক বর্ণনা
শনিবার সরেজমিনে জাকারিয়ার গ্রামের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, সন্তান হারা পরিবারের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এসে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। জাকারিয়ার মা শাহানারা বেগম ও তার স্ত্রী রিনা আক্তার শোক সইতে না পেরে কিছুক্ষণ পরপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না কেউ।
জাকারিয়ার বাবা আব্দুল বাতেন ভূঁইয়া জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ে বাড়ি আসার পথে নিউজিল্যান্ড থেকে জাকারিয়ার এক সহকর্মী ফোন করে জানায়, সেখানের এক মসজিদে গোলাগুলি হয়েছে। এতে জাকারিয়া গুরুত্বর আহত হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরে আবার খবর আসে জাকারিয়া আর নেই।
ইত্তেফাক/জেডএইচ