মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে মনপুরা

ভোলা জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে। মেঘনার তীব্র স্রোতে চতুর্দিক থেকে ভেঙে যাচ্ছে জনপদ। গত কয়েক বছরে মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, মসজিদ, মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
 
অব্যাহত ভাঙনে ১নং মনপুরা ইউনিয়নের উত্তর মাথা দিয়ে ভেঙে কেবলই ভেতরে ঢুকছে মেঘনা। এরই মধ্যে মনপুরা ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ড সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া, একই ইউনিয়নের কাউয়ার টেক, সীতাকুন্ড, ঈশ্বরগঞ্জ মৌজার অধিকাংশ গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রামনেওয়াজ বাজারটি ভেঙে প্রায় সম্পূর্ণ নদীগর্ভে চলে গেছে। পাকা রোডটিও এখন ভাঙতে শুরু করেছে। মনপুরা ইউনিয়ন পরিষদটি যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। মনপুরা ইউনিয়নের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত স্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ সব প্রতিষ্ঠান অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিটা-মাটি হারিয়ে পথে বসতে শুরু করেছে।
 
হাজির হাট ইউনিয়নও ভাঙনের কবলে। হাজির হাট ইউনিয়নের নাইবের হাট, সোনারচর অর্ধাংশ, চরঞ্জান, দাসের হাট প্রায় সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন। একইভাবে উত্তর সাকুচিয়া ও দক্ষিণ সাকুচিয়া মেঘনার ভাঙনে কেবলই ছোট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে মনপুরা সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে মূল ভূখণ্ড থেকে মনপুরার মানচিত্র। দ্রুত নদী-ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য জনপ্রতিনিধিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। ভাঙনকবলিত মানুষের দাবি—সরকার যদি কলাতলী টু মনপুরা  বাঁধ নির্মাণ করে, তাহলে স্থায়ীভাবে মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। হাজার হাজার একর জমি জেগে উঠবে। পুনর্বাসন হবে প্রায় ২০ হাজার মানুষের।
 
মনপুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘মনপুরার উত্তর মাথা থেকে ভেঙে চারটি ওয়ার্ড নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার একর ফসলি জমি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে গেছে।’  উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেলিনা আক্তার বলেন, ‘মেঘনার ভাঙনে  ছোট হয়ে আসছে মনপুরা। ভাঙন রোধের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে। ভাঙন থেকে রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।