গৌরীপুরে দ্রুত নেমে যাচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর

জলবায়ু পরিবর্তন, বৈরি আবহাওয়া, যথেচ্ছা ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে গৌরীপুরে ভূ-গর্ভস্থ পানির দ্রুত স্তর নিচে নেমে গেছে। গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতেই পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার ১১টি গ্রামে ইতিমধ্যে সেচের জন্য ব্যবহূত অগভীর নলকূপ দিয়ে পানি উঠছে না। প্রায় ১০হাজার পরিবারের সাধারণ নলকূপেও পানি থাকে না। সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ২শতাধিক পুকুর ইতিমধ্যে ভরাট।
 
স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, প্রকৃতির ভারসাম্য বিবেচনা না করেই যত্রতত্র গভীর নলকূপ বসিয়ে পানি উত্তোলনের কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানি কমে নিচে নেমে যাচ্ছে। এছাড়া জলাধার আইন অমান্য করে সরকারি-বেসরকারি পুকুর ভরাট চলছে গৌরীপুরে। উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রিত রামগোপালপুর ইউনিয়নের বলেশ্বর নদী মাছ চাষের জন্য ইজারা দেয়া হয়। বর্তমানে ২কোটি টাকার দু’টি ব্রিজের নিচে বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। লিজ দেয়ায় সহনাটী ইউনিয়নের জলবুরুঙ্গায় মাছ চাষের জন্য সাধারণ মানুষ এ পানি ব্যবহার করতে পারছে না। পৌর শহরের জমিদার ডিকে লাহিড়ীর পুকুর ও গোহাটা মজাপুকুরে মাছ চাষের কারণে এ পানিও সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারছে না। অধিকাংশ খালও প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে।
 
এদিকে উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের ১১গ্রামে সেচের জন্য অগভীর নলকূপে পানি না উঠায় ২হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসলের ভবিষ্যত্ নিয়ে কৃষকরা শংকিত। এ ইউনিয়নের অধিকাংশ সেচযন্ত্র বিকল। বিকল সেচযন্ত্র, বিদ্যুত্চালিত পাম্প, ডিজেল চালিত স্যালো  মেশিন বার বার গর্ত করে নিচে নামানোর পরও কাঙ্ক্ষিত পানি পাচ্ছেন না কৃষক।
 
কৃষক রফিকুল ইসলাম বাবুল জানান, প্রায় ৬হাজার টাকা ব্যয়ে ৪০শতাংশ জমি রোপণ করেছিলেন, পানির অভাবে মরতে বসেছে। পানি সংকটে এসব এলাকার কৃষক দিশেহারা। গর্ত করে মেশিন নিচে বসিয়েও পানির সন্ধান পাচ্ছেন না।
 
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানান, এ সংকট আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সংকট উত্তরণের জন্য ৫/৬হাজার সাবমারসিবল নলকূপ প্রয়োজন।