আইন ভেঙে সাজা পেয়েছে ৮০০ র‌্যাব: তথ্যমন্ত্রী

 
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ আইনবহির্ভূত বিভিন্ন কাজের জন্য র‌্যাবের আটশরও বেশি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সচিবালয়ে রবিবার 'বিদেশীদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে' শিরোনামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তিনি।
 
ইনু বলেন, 'আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো অধিকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেই। এ ব্যাপারে তাদের কোনো আইনগত অধিকারও রাষ্ট্র দেয়নি বা সমর্থনও করে না। কেউ যদি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বা আইনবহির্ভূত কোনো কাজে জড়িয়ে পড়ে তবে তার যথাযথ তদন্ত হয়, বিচার হয় ও দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তি হয়। র‌্যাবের আটশর বেশি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।'
 
কোন কোন অপরাধে এসব র‌্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'সবাইকে বিচারবহির্ভূত কাজের জন্য নয়, আইনবহির্ভূত কাজের জন্য যেমন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।' স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আইনি পদক্ষেপের আওতায় আসা র‌্যাব সদস্যদের তালিকা পাওয়া যাবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।
 
ইনু বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্নেল, ওসি, এডিশনাল এসপি, এসপি কাউকে ছাড় দিচ্ছি না আমরা। সেদিক থেকে মনে করি ক্রমাগত আইনের শাসনের দিকে বলিষ্ঠ পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছি। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত থাকলে সরকার তা সমর্থন করে না।'
 
২০১৫ সালে বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর  বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বাংলাদেশে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের’ ঘটনাকে ‘সবচেয়ে বড় মানবাধিকার সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সরকার বিভিন্ন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ‘ব্যর্থ’ হয়েছে। এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাতেই সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তথ্যমন্ত্রী ইনু। বিডি নিউজ।