সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার ও রিমান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে পাল্টা স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল রবিবার জয় তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘ইমরান সরকার একজন অপরাধীর হয়ে কথা বলছে, যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলো। হয়তো বিএনপি তাকে পয়সা দিয়েছে। কে জানে! যেভাবেই হোক, আমি তার প্রতি সব শ্রদ্ধা হারিয়েছি। তাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে আমাদের সরকারের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
‘বায়বীয় অভিযোগে গ্রেফতার’: ইমরান এইচ সরকার তার পোস্টে প্রবীণ ওই সাংবাদিককে অপহরণের বায়বীয় অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে উল্লেখ করে হতাশা প্রকাশ করেছেন। ইমরান লিখেছেন, ‘প্রবীণ (৮১ বছর বয়সী) সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেফতার ও রিমান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শফিক রেহমানের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে আমি একমত নই। ভিন্নমতের হলেই তাকে দমন করার যে নোংরা রাজনৈতিক অপকৌশল, এর একটা অবসান চাই। দেশে যখন একের পর এক মানুষ খুন হচ্ছে, লেখক-প্রকাশক-বিদেশি থেকে শুরু করে মসজিদ-মন্দিরে ঢুকে মুয়াজ্জিন-পুরোহিতকে হত্যা করা হচ্ছে, তখন খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অপহরণের বায়বীয় অভিযোগে এমন একজন প্রবীণ সাংবাদিককে গ্রেফতার সত্যিই হতাশাজনক। আমি প্রত্যাশা করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং প্রতিপক্ষকে দমনের চেয়ে দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দিকে তারা মনোযোগী হবে।’ এ বিষয়ে ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।
‘ইমরান সুবিধাবাদী এবং মিথ্যাবাদী’: এদিকে প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় তার স্ট্যাটাসে আরো লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস আমাকে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রে শফিক রেহমানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা উদঘাটন করেছে। তারা এ বিষয়ে প্রমাণাদি আমাদের সরকারের কাছে দিয়েছে। তাকে এই প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এরচেয়ে বেশি কিছু প্রকাশ করতে পারছি না, কিন্তু এই প্রমাণ দ্ব্যর্থহীন এবং অখণ্ডনীয়।’
জয় লিখেছেন, ‘আমি আশাই করেছিলাম বিএনপি এটা নিয়ে মিথ্যা বলার চেষ্টা করবে। যদিও আমি আশ্চর্য হয়েছি ইমরান সরকারের বিষয়ে। সম্ভবত শেষ পর্যন্ত তার আসল চেহারাটা উন্মোচিত হলো। এটা দেখে মনে হচ্ছে সে আমাদের বেশিরভাগ সুশীলের মতই আরেকটা সুবিধাবাদী এবং মিথ্যাবাদী।’ সজীব ওয়াজেদ ফেসবুকে আরো বলেন, ‘আমি আমার সকল বন্ধু এবং ভক্তদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, যারা তাকে (ইমরান) অনুসরণ করেন তারা তাকে ফেসবুক থেকে আনফলো/আনফ্রেন্ড করুন।’