ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের মধ্যে মৃত ভোটারদের ভোট দেয়ার তথ্য-প্রমাণও জমা হয়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ৬ নম্বর সদর ইউনিয়নের এক সাধারণ সদস্য পদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সোহেল রানা এ ধরনের অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ নিয়ে রবিবার নির্বাচন কমিশনে হাজির হন।
ওই প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ, তিনি ওই ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদের প্রার্থী ছিলেন। ভোটার তালিকা অনুসারে এ ওয়ার্ডের নয়ানী শ্রীবরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের মোট ভোটার এক হাজার ৪৫৩ জন। কিন্তু এর মধ্যে ৫৩ জনই মৃত। বাকি ভোটারদের মধ্যে ৭ জন নির্বাচনী দায়িত্বে ইউপি’র বাইরে ছিলেন। প্রবাসেও রয়েছেন কয়েকজন। কিন্তু গত ৩১ মার্চের নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ দেখানো হয়েছে মোট এক হাজার ৪২২ জনের। অব্যবহৃত
ব্যালট দেখানো হয়েছে ৩১টি।
অভিযোগকারীর প্রশ্ন, মৃত ব্যক্তি নির্বাচনী দায়িত্বে ইউপি’র বাাইরে থাকা লোকজন ও প্রবাসীরা কীভাবে ভোট দিলেন? তাদের ভোট ছাড়া ওই কেন্দ্রে ১৪২২ জনের ভোট প্রদানও বা কিভাবে সম্ভব? এই ভূতুড়ে কারবার কি বিশ্বাসযোগ্য? অভিযোগকারী তার অভিযোগপত্রের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভোটার তালিকায় থাকা ৫২ জন মৃতের নাম, নির্বাচনী কাজে ৭ জনের অন্য ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনের তথ্য, প্রবাসী ব্যক্তিদের সনদও দাখিল করেছেন।
অভিযোগকারী সোহেল রানার বক্তব্য, ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আব্দুল হালিম ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী আইয়ুব আলীর সমর্থকরা তাকে ও আরেকজন সদস্য প্রার্থীকে ওই কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেয়। সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ভোট শুরু হওয়ার পরই তারা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে কেন্দ্রে অনাধিকার প্রবেশ করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারিকে প্রভাবিত করে নিজেদের প্রতীকে ঢালাও ভাবে সিল মেরে বাক্স ভরে। নির্বাচন কমিশনের কাছে এ অভিযোগকারীর আবেদন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ওই ওয়ার্ডে আবারও ভোট নেয়া হোক। কমিশনে এ ধরনের আরো কয়েকটি অভিযোগ জমা হয়েছে এবং অভিযোগকারীরা সবাই সদস্য প্রার্থী।
কিন্তু নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক চেয়ারম্যান প্রার্থীর অভিযোগ-আবেদন যেখানে আমলে নেয়া হচ্ছে না, সেখানে সদস্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কিছু করার আছে বলে মনে হয় না। ওইসব কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে কমিশনের নির্দেশ ছিল, কোন ইউপি’র নির্বাচন সম্পর্কে যদি অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে ওই ইউপির নির্বাচনী ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের আগে সে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে। কিন্তু প্রায় প্রতিটি ইউপি’র নির্বাচন সম্পর্কেই অভিযোগ জমা হওয়াতে কমিশন শুধুমাত্র তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো আমলে নিতে বলে।
কমিশনের সর্বশেষ এই নির্দেশনার ফলে কোন অভিযোগকেই আর আমলে নেয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র নির্বাচনে ফল জালিয়াতির অভিযোগের স্তূপ থেকে একটি ভোট কেন্দ্রের ঘটনাকেই আমলে নেয়া হয়। ওই ভোট কেন্দ্রটি হচ্ছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৬ নম্বর রমজান নগর ইউপির রমজান নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার অগ্রণী ব্যাংকের শ্যামনগর শাখার সিনিয়র অফিসার মুন্সি আব্দুর রব গত সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের শুনানিতে হাজির হয়ে স্বীকার করেছেন যে, তিনি ফ্লুইড ব্যবহার করে তার কেন্দ্রের প্রথম ফলাফল পাল্টে ফেলেছেন। কিন্তু তারপরও ভোট জালিয়াতদের সুযোগ দিতে সেখানে কমিশন আবারও ভোটের আয়োজন করতে যাচ্ছে।