বিক্রি হয়ে গেল বগুড়ার ঐতিহাসিক নওবাব প্যালেস

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহি নবাববাড়ি (নওবাব প্যালেস)  বিক্রি হয়ে গেছে।  বগুড়ার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা হলো না।
 
বগুড়ার তিনজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ১ একর ৫৫ শতক জমি ও স্থাপনা  কিনে নিয়েছেন ২৭ কোটি ৪৫ লাখ ৭ হাজার টাকায়। এই সম্পত্তি বিক্রি করেছেন অবিভক্ত পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ আলীর  দুই পুত্র সৈয়দ হামদে আলী চৌধুরী ও সৈয়দ হাম্মাদ আলী চৌধুরী। বগুড়া সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে গত ১৭ এপ্রিল দলিল সম্পাদন হয়েছে।
 
জানা গেছে, বগুড়া শহরের সূত্রাপুর মৌজার ১৭০৮ নং দাগে অবস্থিত নবাবাড়ির মোট সম্পত্তির পরিমাণ তিন একর ৭৫ শতক বা প্রায় ১০ বিঘা। এর  বেশির ভাগ সম্পত্তি অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এই সম্পত্তির ওপর ক্রেতারা গড়ে তুলেছেন আল আমিন কমপ্লেক্সে, টিএমএসএস মহিলা মার্কেট, শরীফ উদ্দিন সুপার মার্কেট ও বহুতল বাণিজ্যিক ভবন।
 
সর্বশেষ এক একর ৫৮  শতক  জমির ওপর ছিল মরহুম মোহাম্মাদ আলী ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের কবরসহ নবাবাড়ি। ১৮৮৪ সালে এই বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি মূল্য হিসেবে স্থাপনাসহ এই বাড়ি বিক্রি হয়েছে ২৭ কোটি ৪৫ লাখ ৭ হাজার টাকায়। এটা কিনেছেন যৌথভাবে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন, ব্যবসায়ী শফিকুল হাসান জুয়েল ও আব্দুল গফুর।
 
বগুড়া সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার এসএম সোহেল রানা দলিল সম্পাদনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গত ১৫ এপ্রিল বিক্রেতা মরহুম মোহাম্মাদ আলীর দুই পুত্র সৈয়দ হামদে আলী চৌধুরী ও সৈয়দ হাম্মাদ আলী চৌধুরী দলিলে স্বাক্ষর করেছেন এবং ১৭ এপ্রিল দলিল রেজিস্ট্রি (দলিল নং -৪৩১৮ ) সম্পন্ন হয়েছে।
 
এর ফলে বগুড়ার বহু বছরের ঐতিহ্য বিলীন হয়ে গেল। এর আগে নওবাব বাড়ির একটি অংশে শিল্পী আমিনুল করিম দুলালের গড়ে তোলা কারুপল্লী (যেখানে ছিল আদিম মানুষের আজব গুহা, সহ শিল্পী দুলালের হাতে গড়া বিভিন্ন পশু পাখির প্রতিকৃতি ) নামের অন্যতম শিশু বিনোদন কেন্দ্র । সেটি  ধ্বংস করে সেখানে বহুতল ভন নির্মাণের পর এবার নওবাব প্যালেস পুরোটাই চলে গেল ব্যবসায়ীদের দখলে। অচিরেই হয়ত ঐতিহ্যবাহী এই জমিতে গড়ে উঠবে আরো  বড় বিপনী বিতান। সেই সঙ্গে মুছে যাবে বগুড়ায় নওবাব পরিবারের শেষ স্মৃতিচি‎হ্ন ।