অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক নারী ও দুই কর্মচারিসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দীন মোল্লা মামলাটি দায়ের করেছেন। ২ কোটি ১৭ লাখ ২২ হাজার ৩৭৬ টাকা ৭০ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলাটি ওইদিন রাত প্রায় ১০টায় এজাহার হিসেবে থানায় রেকর্ডভূক্ত করা হয়েছে। যার মামলা নং ১৩।
মামলার আসামিরা হলেন, ইউএনও অফিসের মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর দিলীপ কুমার রায় (৫০), অফিস সহায়ক মোছা. সুফিয়া আক্তার (৪৫), নিরাপত্তা প্রহরী শ্রী জগবন্ধু দত্ত (৬০) ও দিনাজপুর সদর উপজেলার খেপুরা ইউনিয়নের বলতৈড় গ্রামের মৃত সুধীর চন্দ্র দাসের ছেলে স্বপন কুমার দাস (৩৬)। এদের মধ্যে স্বপন কুমার দাস বাদে অন্য তিনজনকে ইতোপূর্বেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
দায়েরকৃত মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেছেন, তিনি গত ২৭/০২/২০০৯ ইং তারিখে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর অজ্ঞাত কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত ০৩/০৯/২০১৩ইং তারিখ থেকে ২৬/০৩/২০১৩ইং তারিখ পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই সময়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন ভাইস চেয়ারম্যান আবু হান্নান মো. সাদেক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এরই মধ্যে ইউএনও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বদলী হলে গত ১৬/০৮/২০১৫ইং তারিখে ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন মো. ফিরোজ মাহমুদ। দায়িত্ব নিয়ে তিনি দফতরের হিসাবপত্র নিরীক্ষা করলে ব্যাংক হিসাব ও ক্যাশ বহিতে বিভিন্ন খাতের ২ কোটি ১৭ লাখ ২২ হাজার ৩৭৬ টাকা ৭০ পয়সার গরমিল ধরা পড়ে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. ইমতিয়াজ হোসেন বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তে উপজেলা পরিষদ ও ইউএনও অফিসের উল্লেখিত অঙ্কের অর্থ উত্তোলনসহ আত্মসাতের সত্যতা পান।
আরজিতে বাদী আরো উল্লেখ্য করেছেন, তিনি (মামলার বাদী) সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন সময়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হান্নান মো. সাদেক ও ইউএনও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান যৌথ স্বাক্ষরে এবং কোনটি ইউএনও একক স্বাক্ষরে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে উল্লেখিত অঙ্কের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের কোন রেজুলেশন (সিদ্ধান্ত) নেই এবং ক্যাশ বহিতে এন্ট্রিও নেই।
আরজিতে দেখা যায়, শুধুমাত্র জনতা ব্যাংক লি. চিরিরবন্দর শাখার হিসাব নং ১০১১০১০১৪০ থেকে পর্যায়ক্রমে ২২/০৪/২০১৩ইং তারিখ থেকে ১৬/০৬/২০১৪ইং তারিখ পর্যন্ত ১৪টি চেকের মাধ্যমে ৩৫ লাখ ৪২ হাজার ৭১২ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একইভাবে ১৮/০৮/২০১৩ইং তারিখে চালান নং ১৩১৪২০২১ এবং ১১/০৩/২০১৪ ইং তারিখে চালান নং ০২ এর মাধ্যমে ৭৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা জমা দেখানো হলেও সেগুলো সেই কোডে জমা হয়নি। চালানগুলো জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্টি করা করে ওই টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এ ছাড়াও সোনালী ব্যাংক লি. চিরিরবন্দর শাখার হিসাব থেকেও পর্যায়ক্রমে অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ মাহমুদ বলেন, অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়ায় ওই তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মামলার বাদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দীন মোল্লা বলেন, উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্তানুযায়ী মামলা করা হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনিছুর রহমান বলেন, মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। যার মামলা নং ১৩। তারিখ-১৯/০৪/২০১৬ইং।
উল্লেখ্য, যাদের স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলিত হয়ে আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে সেই ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রহস্যজনক কারণে মামলার আসামি করা হয়নি।