অভিশংসন নিয়ে নালিশ জানাতে জাতিসংঘে যাচ্ছেন রৌসেফ

অভিশংসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার চেষ্টায় জাতিসংঘে যাচ্ছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ। বুধবার তার মন্ত্রিসভার আরও একজন মন্ত্রী পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় রাজনৈতিক সঙ্কটে ব্রাজিলের মন্ত্রিসভা প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
 
এই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার জাতিসংঘের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন রৌসেফ। সেখানে তিনি নিজের অভিশংসনের উদ্যোগকে অবৈধ অভিহিত করে এর নিন্দা জানাবেন। এই উদ্যোগকে ‘অস্ত্র ছাড়া ক্যু’ বলে অভিহিত করেছেন রৌসেফ। এর কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন তিনি। 
 
এদিকে তার বিরোধীরাও প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের পক্ষে তদবির করতে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। বিরোধী পিএসডিবি পার্টির নেতা সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান অ্যালয়িসিও নুনেস যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে রয়েছেন। অভিশংসন প্রক্রিয়া কীভাবে সংবিধান সম্মত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকর্তাদের কাছে তা তুলে ধরবেন তিনি।
 
ওদিকে রৌসেফের মন্ত্রিসভার জ্বালানিমন্ত্রী এদুয়ার্দো ব্রাগা জানিয়েছেন, নিজের দল পিএমডিবি পার্টির নির্দেশে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করছেন তিনি। ব্রাজিলের ক্ষমতাসীন জোটে রৌসেফের প্রধান অংশীদার ছিল পিএমডিবি পার্টি। কিন্তু প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের পক্ষে থাকার জন্য গেল মাসে সরকার ছাড়ার ঘোষণা দেয় দলটি।
 
রৌসেফ অভিশংসনের মুখোমুখি হলে ব্রাজিলে বামপন্থি ওয়ার্কার্স পার্টির টানা ১৩ বছর ধরে চলা শাসনের অবসান ঘটবে। এ পর্যন্ত রৌসেফের ৩১ সদস্যের মন্ত্রিসভার মোট নয়জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এতে অলিম্পিক গেমস শুরু হওয়ার মাত্র চারমাস আগে ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রাজনৈতিকভাবে নিয়োগকৃত কোনো মন্ত্রী ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে তাতে অলিম্পিক গেমস শুরু হওয়ার সময় দিলমা রৌসেফের ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদে না থাকার জোরালো সম্ভাবনা আছে।
 
অভিশংসন শুরু হলে পিএমডিবির নেতা ভাইস প্রেসিডেন্ট মিচেল তেমের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। ওই পদের প্রস্তুতি নিতে তিনি ইতোমধ্যেই ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নিয়ে সাও পাওলোতে বৈঠক করেছেন। ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, দ্রুত অর্থনৈতিক আস্থা ফিরিয়ে আনা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পরিকল্পনাই বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল। রয়টার্স।