হতাশা চর্চা কেন্দ্র! নামটাইতো অদ্ভুত। অনেকটা বলে কয়ে ‘মৃত্যু-ধ্বংস’ ডেকে আনার চর্চা করার মতো। তবে হতাশা ব্যর্থতাসূচক ব্যঞ্জনা হলেও শব্দটাকে বিপরীতার্থকভাবে ব্যবহার করছে একদল ছেলে মেয়ে। নেতিবাচক গল্পের গতিপথ বদলে যেন জীবনের মোহনায় ছুটে চলা। ভুল আবেগগুলোকে জীবনের কাছে নিয়ে আসার চেষ্টা। এমন এক ভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটক হতাশা চর্চা কেন্দ্র।
গল্পে দেখা যাবে কেউ হতাশ হয়ে আত্মহত্যা করতে চাইলে তাকে কৌশলে অন্যভাবে হতাশা প্রকাশ করতে বলে। কেউ খুব সিরিয়াস বিষয় নিয়ে হতাশ, কেউ বা খুব হালকা বিষয় নিয়ে হতাশ। এসব নিয়ে হাসি ঠাট্টা মজা করাই যেন ওদের কাজ। এর এর পেছনেই রয়েছে বাঁচার গল্প।
গল্পটি শুধু নাটকেরেই নয়। এই গল্পটির অস্তিত্ব বাস্তবেও রয়েছে বলে জানিয়েছেন এর নির্মাতা বিশ্বজিত দত্ত ও আবদুল্লাহ মাহফুজ অভি। ফেসবুকে হতাশা চর্চা কেন্দ্র নামে একটি গ্রুপ আছে। এই গ্রুপটির জন্মই হয় অনেকটা নাটকের গল্পের সঙ্গে মিল রেখে। ফেসবুক গ্রুপটি কি কারনে তারা তৈরি করেছিলো নাটকে তুলে ধরা হয় সেই গল্পটিও । নাটকের গল্পটির সঙ্গেহ বাস্তবতারও মিল রয়েছে। তাই স্ক্রিনে যা দেখা যাবে এর অস্তিত্ব নানা রূপে এই সমাজের ভেতরেই রয়েছে।IMG0
নাটকটিতে অভিনয় করেছেন, তৌসিফ মাহবুব, ফারহান আহমেদ জোভান, সাল্লাহ খানম নাদিয়া, তানভীর ফাইনেস্ট, জাকি আহমেদ জারিফ আবদুল্লাহ, ইয়ানা সোহা, বিন্দু, সাবরিনাসহ আরো অনেকে।
নাটকটি রচনা করেছেন আবদুল্লাহ মাহফুজ অভি। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেনে বিশ্বজিত দত্ত ও আবদুল্লাহ মাহফুজ অভি। টাইম ইনোভিশন প্রডাকশন থেকে নাটকটি প্রযোজনা করেছেন তামজীদ রহমান।
আবদুল্লাহ মাহফুজ অভি বলেন, ‘আমরা একটু ভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করি। আমরা চেষ্টা করি সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরা। এবং তারুণ্যের উদ্যামকে একটু উৎসাহ দেয়া। কারণ চলার পথে আমরা নিজেরাই টের পাচ্ছি উৎসাহ উদ্দীপনা একটা স্বপ্নকে কত বড় করে দিতে পারে। আর উদ্দীপনার অভাবে চলার পথে কত বাধা তৈরি হতে পারে।
সঙ্গে আরেক নির্মাতা বিশ্বজিত দত্ত যোগ করে বলেন, ‘নাটকে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে। যে তোমার কষ্ট হতাশাকে চেপে না রেখে শেয়ার করো। প্রকাশ করো। হতাশা থেকে নিজের যে জগত ছোট হয়ে আসে সেটা হতে দিও না। বরং বলো। এটা নিয়ে ঠাট্টা করো। বেঁচে থাকার জন্য স্পেসটা আরো বাড়াও।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, একটি এফএম রেডিও স্টেশন ও ঢাকার বেশ কয়েকটি জায়গায় নাটকটির শুটিং হয়েছে।