নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাধিকার প্রতিষ্ঠা হলেই রাষ্ট্রের উন্নতি

ব্র্যাকের উপদেষ্টা স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেছেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজে তাদের সম অধিকার প্রতিষ্ঠা করা গেলেই একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে উন্নত হয়। দুর্নীতি যে সব অর্জন ম্লান করে দেয় রানা প্লাজার ঘটনা তার প্রমাণ। যদিও স্বাধীনতার পরে ৪০ বছরে বাংলাদেশ বিভিন্ন সূচকেই অনেক   এগিয়েছে, পাশাপাশি অনেক অসমাপ্ত কাজও জমে গেছে। সমাজ থেকে আজো আমরা নারীর প্রতি সহিংসতা, শিশু নির্যাতন ও লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে পারিনি।’
 
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানে বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে আয়োজিত এক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন। রানা প্লাজা ধসের তিন বছর পূর্তিকে স্মরণ করে তিনটি নরডিক দেশ ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন যৌথভাবে এ শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল নারী শিল্পীদের সংগঠন সাঁকো, মীনা ইভি, আর্য চলচ্চিত্র ফাউন্ডেশন এবং ফ্যাশন রেভ্যুলেশন।
 
এ উদ্বোধনী পর্বে আরো উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, বাংলাদেশে নিযুক্ত সইডেনের রাষ্ট্রদূত ইয়োহান ফ্রিসেল, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মেরেট লুনডেরমো, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হ্যানা ফিউগ্যল এসকেয়ার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জের পরিচালক নওশীন খায়ের।
 
সুলতানা কামাল বলেন, নারীদের অধিকারের বেশ কিছু সূচক ঊর্ধ্বমুখী। তবে সবচেয়ে আশার কথা যে, বাংলাদেশের নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছে।
 
প্রদর্শনীতে প্রতিষ্ঠিত নারী শিল্পী এবং রানা প্লাজা থেকে বেঁচে যাওয়া ৩৪ জন নারী শ্রমিকের কাজ স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীর নাম ‘প্রত্যাশার পাখা’। নতুন জীবন ফিরে পাওয়া নারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন দেশের স্বনামধন্য শিল্পীরা। তাদের চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্যও স্থান পয়েছে প্রদর্শনীতে। এসব নিয়েই গুলশানের বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে শুরু হয়েছে চমক জাগানো এক প্রদর্শনী। তবে দর্শকদের আগ্রহ ছিল রানা প্লাজার শ্রমিকদের করা ভাস্কর্যের দিকে। রানা প্লাজা ধসে বেঁচে যাওয়া নারীদের মাঝ থেকে ৩৪ জন নারী মিলে এমনি করেই গড়েছেন ১৮টি ভাস্কর্য। প্রদর্শনীতে মোট চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্য মিলিয়ে মোট ৫৪টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত।