বরের দুই পা ভেঙ্গে দেয়ার ঘটনায় এসআই সাময়িক বরখাস্ত

 
গাজীপুর মহানগরীর পুবাইলের হায়দরাবাদ এলাকায় বিয়ের গায়ে হলুদের আগের রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে বর রুবেল মিয়াকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙ্গে দেয়ার ঘটনায় জয়দেবপুর থানার এসআই আলী আকবরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  মোহাম্মদ সুলাইমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যগণ হলেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আমীর হোসেন ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মো. মোমিনুল ইসলাম। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
 
এদিকে রুবেল মিয়াকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙ্গে দেয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রুবেল মিয়ার পিতা মো. নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন- ওই এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে সোহেল মিয়া (২৭) ও রবিউল ইসলাম (৩২), কামাল হোসেন সোধন (৬০), তার ছেলে আঃ রহিম (২৮) ও লোকমান মিয়া (২২)। মামলায় আরো অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
 
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, আসামিরা মাদক ব্যবসা ও এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করায় রুবেল মিয়া এর প্রতিবাদ করতো। এতে আসামিরা রুবেলকে মামলায় জড়িয়ে জেল খাটাবে বলে হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ঘটনার জেরে বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাড়ির সামনে হাটাহাটি করার সময় উল্লেখিত আসামিরা রুবেলকে ধরে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে তাকে বাড়ির পশ্চিম পাশে নিয়ে বেদম মারতে থাকে। তাদের মারধরে রুবেলের দুটি পা ভেঙ্গে যায়। আসামিরা রুবেলকে মৃত ভেবে একটি গর্তের মধ্যে ফেলে চলে যায়। আসামিরা রুবেলের পকেট থেকে নগদ টাকা ও গলার স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। পরে আসামিরা রুবেলের ঘরের ড্রয়ার থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
 
পুলিশের উপস্থিতিতে রুবেল মিয়াকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙ্গে দিলেও মামলায় পুলিশের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, অভিযুক্ত দুই এসআইয়ের  বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গাজীপুর পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, গাজীপুর মহানগরীর হায়দরাবাদ মাওড়ার টেক এলাকায় বুধবার রাতে পুলিশ আসামি ধরতে যায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতিতে বাদী পক্ষের লোকজন রুবেল মিয়াকে বেধড়ক মারধর করে। পরে পুলিশ রুবেলকে সেখানে ফেলে রেখে চলে আসার পথে এলাকাবাসী তাদের ঘেরাও করে। খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজুর রহমান মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
 
আহত রুবেলের গত বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ ও শুক্রবার বিয়ের দিন ধার্য ছিল। এ ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকালে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।