মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২৩তম রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রয়েছে।
২৩তম মামলা কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে যে কোন সময় রায় ঘোষণা (সিএভি) করা হবে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল গত ১১ এপ্রিল উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে এ আদেশ দেয়।
একই মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন এডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ। পলাতক চারজন হচ্ছেন শামসুদ্দিনের সহোদর সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ এবং রাজাকার কমান্ডার গাজী আব্দুল মান্নান, হাফিজ উদ্দিন ও আজহারুল ইসলাম।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের আরো ২৪টি মামলার তদন্ত চলছে। তবে এসব মামলার আসামিরা যেন তদন্তের কথা জেনে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য তাদের নাম প্রকাশে গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বরাবর প্রায় সাড়ে ছয়শ'র মতো অভিযোগ জমা হয়েছে বলেও সূত্র জানায়।
তদন্ত সংস্থার জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা সানাউল হক এ বিষয়ে জানান, এ পর্যন্ত ৩৭টি মামলায় তদন্ত সম্পন্ন করেছে তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২২টি মামলার রায় ঘোষনা করেছে। বর্তমানে একটি মামলার রায় ঘোষনার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। আরো ৩ মামলার বিচারও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিলের শুনানি শেষে ৭টি মামলায় চূড়ান্ত রায় হয়েছে। এর মধ্যে চারটিতে জামায়াতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
আপিলের আরেক রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। এ রায়ের বিষয়ে উভয়পক্ষ ইতোমধ্যে রিভিউ আবেদন দায়ের করেছে। এ ছাড়াও জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও মীর কাশেম আলীকে মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছে আপিল বিভাগ। গত ১৫ মার্চ রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এ রায় রিভিউ’র আবেদন করছে আসামিপক্ষ যা ৩ মে শুনানির জন্য ধার্য রয়েছে।