ভারতের অ্যাম্বেসেডর গাড়ির কারখানা এখন ‘ভুতুড়ে শহর’

এক সময় ভারতের মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান মোটর্সের অ্যাম্বেসেডর গাড়ি ছিল দেশটির জাতীয় আইকন। কিন্তু ২০১৪ সালের মে মাসে চাহিদার কমতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে হঠাৎ করেই এর উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়।
 
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহরের উপকণ্ঠে যেখানে কার তৈরির কারখানা ছিল লে-অফ ঘোষণার পরও সেখানে এখনও প্রায় এক হাজার শ্রমিক বসবাস করছেন। কিন্তু পানি ও বিদ্যুতবিহীন এসব শ্রমিকের জীবনযাত্রা আজ বড়ই করুণ।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, হিন্দুস্তান মোটর্সের কাছ থেকে তারা এখনও তাদের বকেয়া  বেতন-ভাতা পাননি। তাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন মানবেতর জীবন-যাপন করলেও কেউ খোঁজ নেয়নি তাদের। আর এর প্রতিবাদে আসন্ন ৩০ এপ্রিলের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তারা ভোট বর্জন করছেন।
 
স্বামী মুন্সি রাই ও ৪ সন্তানকে নিয়ে কারখানা প্রাঙ্গণে বসবাসকারী সীমা রাই জানান, আমার স্বামী এই কারখানায় কাজ করত কিন্ত কারখানা বন্ধ হওয়ার পর তিনি বেকার। এখন কেউ কাজ দিতেও চায় না। আবার নতুন কিছু করার মত টাকাও আমাদের নেই। এখানে রান্না করার মত গ্যাসের ব্যবস্থা নেই, কাঠের চুলা ব্যবহার করে শত কষ্টেও এখানে পড়ে আছি। কোন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে আমরা কোন আশা পাইনি। তাই নির্বাচনে ভোট দিয়ে কি হবে, এখানেতো কোন পরিবর্তন হবে না।
১৯৮৬ সালে অন্তত ৩০ বছর আগে হিন্দুস্তান মোটর্সে যোগ দেয়া শ্রমিক বীরেন্দ্র সিং জানান, এখানকার বর্তমান পরিস্থিতি খুবই জটিল। কারখানা বন্ধ, উত্পাদন নেই। আমি অন্যত্র কাজ খোঁজার চেষ্টা করছি। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছি। বিদ্যুত না থাকায় এই গরমে ঘরে ঘুমাতে পারিনা। গত দুই বছর ধরে আমাদের পাশে কেউ দাড়ায়নি। এখন ভোট দিয়ে কি হবে।
 
ওয়েল্ডার হিসেবে কর্মরত ৫২ বছর বয়সী ওম প্রকাশ গিরি জানান, মাসিক ১২ হাজার রুপি বেতনে ৬ সদস্যের পরিবার মোটমুটি ভালই চলছিল কিন্তু এখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন। তিনি বলেন, সকলেই আমাদের ভোট বর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি পানি ও বিদ্যুতের অভাবে যারা কোয়ার্টার ছেড়ে গেছেন তারাও এই ভোটে অংশ নেবে না বলে জানান তিনি।
একদা কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগে কর্মরত দেবাশীষ মিত্র বলেন, পুরো কলোনী এখন ভূতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে। সমস্ত কিছু বিকল হয়ে যাচ্ছে যাতে আমরা এখন থেকে পালিয়ে যাই। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। এভাবে কতদিন চলবে তাও জানি না। শুধুমাত্র ভোট বর্জনে এর সমাধান হবে কিনা তারইবা নিশ্চয়তা কোথায়। সূত্র: বিবিসি