শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার নির্দেশ বিএনপির

আজ শনিবার তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে যে কোন পরিস্থিতিতে ভোটের মাঠে থাকতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি হাইকমান্ড। আর প্রতিটি ইউনিয়নে অনিয়ম ও  প্রতিপক্ষের অবস্থা দলের বিভাগ ও জেলা ভিত্তিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটিকে জানাতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে তারা নিজেরা প্রশাসনের সঙ্গে তাত্ক্ষনিকভাবে যোগাযোগ করবেন এবং কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলকে অবহিত রাখবেন। মনিটরিং সেল অনিয়মের মাত্রা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
 
বিএনপি নেতারা আজকের নির্বাচনে সহিংসতা এবং ’ভোট ডাকাতি’র আশংকা করছেন।
 
তাদের আশংকা, বিগত দুই ধাপের নির্বাচনের চেয়ে তৃতীয় ধাপে আরো মরিয়া হয়ে ভোট কেন্দ্রে নামবে প্রতিপক্ষ।
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নামে রক্তগঙ্গা বইছে। নির্বাচন জনকল্যাণের জন্য হলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নামে হত্যা হচ্ছে। এ নির্বাচন কখনই গ্রহণ করা যায়না। তিনি বলেন, এপর্যন্ত ৪০ জনের বেশি খুন হয়েছে এই নির্বাচন ঘিরে। তৃতীয় ধাপে সরকারি দলের প্রার্থীরা আরো বেপরোয়া। কারণ বিগত দুই ধাপের নির্বাচনে তারা  যেভাবে মেরে-কেটে ’বিজয়’ নিয়েছে তাতে তাদের দলের নেতারা বাহবা দিয়েছেন। ফলে তারা আস্কারা পেয়ে এবার আরো সহিংসতা দেখাবে।
 
নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে মাহবুবুর রহমান বলেন, যেখানে নির্বাচন কমিশন সরকারকে নির্দেশ দেবেন,  সেখানে সরকার নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়ে বলছে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। এ থেকেই বোঝা যায় নির্বাচন কমিশনের দুর্বলতা। এই ইসি সরকারের গোলাম। এদের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থাই শেষ হয়ে গেছে।
 
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি এক হাজার লোকও মারা যায় নির্বাচন কমিশন বলবে ’খুব সুষ্ঠু’ নির্বাচন হয়েছে। সরকার বলবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন শুধু অথর্ব নয়, তারা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাড়া আর কিছুই নয়। এই নির্বাচন সম্পুর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ। তারপরও আমরা মাঠে থাকবো। ছাড় দেয়া হবেনা। গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচনে থাকছে বিএনপি। রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন কতটা খারাপ হতে পারে তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতেই পরিবেশ না থাকা সত্ত্বেও আমরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের মাধ্যমে সহিংসতাকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল।
 
নির্বাচন পর্যবেক্ষনের দায়িত্বে থাকা দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং সেল আজ সতর্ক থাকবে। নেতা-কর্মীদের ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যে কোন অনিয়ম-সহিংসতার পরিস্থিতি তাত্ক্ষনিকভাবে দায়িত্বশীলদের অবহিত করতে বলা হয়েছে। তিনি জানান,দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে কাজ করতে ইতিপুর্বে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় এবং মাঠ নেতাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিভাগভিত্তিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
 
জানাগেছে,চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দুই ধাপে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ৯৮৪টিতে এবং বিএনপির প্রার্থীরা ১০৮টিতে জয় পেয়েছেন। নির্বাচনে গুলি, বোমা, সংঘর্ষ, ব্যালট ছিনতাই, জাল ভোটসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। দু’ধাপে এক হাজার ১৫১টি কেন্দ্র্রে হওয়া এ নির্বাচনে প্রায় ৪০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন বহুলোক।