ঢাকা মেডিকেলে নবজাত সন্তানকে রেখে পালিয়ে গেলেন গর্ভধারিণী!

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ২০৫ নম্বর ওয়ার্ডে নবজাতক মেয়েকে রেখে পালিয়ে গেছেন গর্ভধারিণী। গত ৫ দিন ধরে নবজাতকের দেখাশুনা করার মতো কাউকে পায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নবজাতক কন্যা সন্তান হওয়ায় স্বামী তালাক দিতে পারে—এই আতঙ্কে মা পালিয়ে গেছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। নবজাতকটিকে চিকিত্সার জন্য ভর্তি করিয়ে দিয়েই ঐ মা  পালিয়ে গেছেন। এ কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নবজাতকের বিস্তারিত পরিচয় নেই।
 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল সিজারের মাধ্যমে অন্যকোনো হাসপাতালে জন্ম হয় মেয়ে নবজাতক। জন্মের দুইদিন পর মা তার নবজাতককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনেন চিকিত্সার জন্য।
 
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০৫ নম্বর ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ফাতেমা সাঈদ জানান, গত ১৫ এপ্রিল সিজারের মাধ্যমে নবজাতকটির জন্ম হয়। তার ওজন ৩ কেজি।  নবজাতকের পেটের এক পাশে ‘অপারেশনে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। নবজাতকের চিকিত্সার জন্য ভর্তি করার পর মাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
 
অভিভাবকের অভাবে তার ক্ষত পরিষ্কার করা হচ্ছে না, তাই ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ছে। ২০৫ নম্বর ওয়ার্ডে পাশের সিটে থাকা আরেক নবজাতকের মা হেনা পালিয়ে যাওয়া মাকে ছেলে সন্তানের জন্য আক্ষেপ করে বলতে শুনেছেন,  ‘এইবারও মেয়ে! স্বামী আমারে তালাক দিবো’।
 
ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মিজানুর রহমান বলেন, আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। নবজাতককে বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। নবজাতকের যত্নে অবহেলা হবে না ।