শেরপুরে ইউপি নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ-গুলি, আহত অর্ধশতাধিক

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আজ শনিবার শেরপুরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। এসব ঘটনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। ভোট গ্রহণের আগের রাত শুক্রবার থেকেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে শুরু করে। 
 
শুক্রবার রাতে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা চর পক্ষীমারী ইউনিয়নের সাতপাকিয়া কেন্দ্রে গোপনে সিল মারছে এ গুজবে নৌকা ও লাঙ্গল প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে ২৫ জন আহত হয়েছে বলে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন।
অপরদিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আকবর আলী জানান, সাতপাইকা কেন্দ্রটি কবজা করার জন্য ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে লাঙ্গল প্রতীকের সমর্থকরা লোক ভাড়া করে। এ সংবাদে স্থানীয় ভোটাররা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় জাপা’র লোকেরা নিজেরাই নিজেদের ঘরে আগুন লাগায়। এতে ঘরের আংশিক পুড়ে যায়। 
 
অপরদিকে দুপুর ১২টার দিকে ঐ ইউনিয়নের ব্যাপারী পাড়া কুলুরচর কেন্দ্রে মোরগ ও ডাব প্রতীকের ২ মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন আহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। 
 
অপরদিকে ভোরে চর শেরপুর ইউনিয়নের চর শেরপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে ২ মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৩২ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় রেজওয়ান নামে একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লছমণপুর ইউনিয়নের ঘিনাপাড়া কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অপরাধে ৩জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
 
এদিকে দুপুর একটার দিকে একই ইউনিয়নের হেরুয়া বালুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক মেম্বার প্রার্থীর ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট বর্ষণ করে। এ সময় ঐ কেন্দ্রে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ভোট গ্রহণ স্থগিত ছিল।