সকাল থেকে শুরু হয় পারাপারের প্রতিযোগিতা। এভাবে প্রতিযোগিতা করেই প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয় আশপাশের ১৭টি গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের। যুগ যুগ ধরে এই সেতু দিয়ে দুর্ভোগ নিয়েই পারাপার হচ্ছেন এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার আত্রাই নদীর বিলদহর বাজার এলাকার ওপর নির্মিত ২৫০ মিটার এই বাঁশের সেতুর ওপর দিয়ে পার হয়ে এসব এলাকার মানুষ জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। তা ছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য আনা নেয়ার কাজ করতে হয় অতিকষ্টে। যুগ যুগ ধরে এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে চামারী ইউনিয়ন ও এর আপাশের এলাকার মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন বহুবার। কিন্তু আশ্বাসেই শেষ, ৪৪ বছরেও নির্মিত হয়নি সেতু।
IMG0
একান্নবিঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী, আরিফুল, সান্তা, মরিয়ম, আঁখি ও শাপলা জানায়, ওই বাঁশের সেতু পার হতে ভয় লাগে। তবুও স্কুলে যাওয়ার জন্য পার হতে হয়। তা ছাড়া অনেক মানুষ ওই সেতু দিয়ে পার হয়। এ কারণে বেশিরভাগ সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়।
একান্নবিঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, নদীতে সেতু না থাকায় বর্ষাকালে খেয়া নৌকা আর শুস্ক মওসুমে বাঁশের সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শত শত ছাত্রছাত্রী পারাপার করে। কিছুদিন আগে সেতু থেকে পড়ে এক ছাত্র মারাত্মক আহত হয়।
IMG1
ইজারাদার রমজান আলী বলেন, এই ঘাট দিয়ে বর্ষায় পারাপারের জন্য খেয়া নৌকা থাকে। শুস্ক মৌসুমে পানি কমে যায়। কোমর পানিতে নৌকা চলে না। তখন যোগাযোগ রক্ষার্থে বাঁশের সেতু ব্যবহার করা হয়। সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। খরচের টাকা তুলতে মানুষের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ টাকা ও মোটরসাইকেলের জন্য ২০ টাকা করে নেয়া হয়।
চামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম বলেন, নদীতে এখন পানি কম থাকায় নৌকা চলে না। এ কারণে বাঁশের সেতু দিয়ে ছাত্রছাত্রীসহ ১৭ গ্রামের মানুষ পারাপার হয়। ভোগান্তি লাঘবে এই ঘাটে একটি সেতুর দাবি রয়েছে এলাকাবাসীর।
IMG2
স্থানীয়রা জানান, নদীটির দক্ষিণপাশে ৮টি এবং উত্তর পাশে ১৭টি গ্রাম রয়েছে। এ সব এলাকার ২৫-৩০ হাজার মানুষ চলনবিলে উৎপাদিত ফসল নিয়ে বাঁশের ওই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে থাকে।
বিলদহর হাটের ইজারাদার মাহবুল আলম বলেন, নদীর উত্তর পাশে রয়েছে কলম ও বিয়াসসহ বিস্তীর্ণ চলনবিল। ওই এলাকার মানুষ আত্রাই নদী পার হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। তা ছাড়া কৃষকদের পণ্য পরিবহনেও বাড়ে অসহনীয় ভোগান্তি।
স্থানীয় সমাজ সেবক বকুল হোসেন জানান, এলাকার মানুষ ভোগান্তি লাঘবের জন্য আত্রাই নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন।
সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) হৃদয়চন্দ্র দাস বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদের নির্দেশে দুই সপ্তাহ আগে মাটি পরিক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।