রাবি ছাত্র মিজানুরের দাফন সম্পন্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিজানুর রহমানের (২৩) লাশ শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পাঠানপাড়া দবিরগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তার মা-বাবা ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে সেখানকার বাতাস।
 
এই গ্রামের উমেদ আলীর ছেলে মিজানুর রহমানের লাশ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী সাহেব বাজারের নাইস ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় মিজানুর কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং একটি ওড়না দিয়ে তার দুই হাত বাঁধা ছিল। একই সঙ্গে পুলিশ ওই কক্ষ থেকে সুমাইয়া নাসরিন (২০) নামের এক তরুণীর লাশও উদ্ধার করে।
 
শনিবার দুপুরে মিজানুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা মিনা খাতুন ঘরের সামনে বসে বিলাপ করছেন। পাশে নির্বাক তার বাবা কৃষক উমেদ আলী। মিজানুরের আরো দুটি বোন আছে। বড় বোন বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট বোন স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। মিজান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে দ্বিবীয় বর্ষ সম্মান শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
 
মিজানুরের মা মিনা খাতুন বলেন, ‘আমার ভাল পোলাডারে কে মাইরলো, মিজানের কোন শত্তুর ছিল না, আমি আমার পোলার হত্যার বিচার চাই।’
 
উমেদ আলী কান্নাজড়িত বলেন, ছেলেডারে নিয়ে বড় আশা ছিল। কোন মেয়ের সঙ্গে তার প্রেম বা সম্পর্ক ছিল এ কথা আমরা কখনো জানি না। কিন্তু সবই শেষ হয়ে গেল।
 
এদিকে সংশ্লিষ্ট রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বক্কর জানান, শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মিজানুরের লাশ তার (চেয়ারম্যান) কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনু খাঁ ঈদগাঁ মাঠে জানাযা শেষে অনু খাঁ কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।