নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা না দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় এক বিজিবি সদস্যসহ অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ৩০জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ সময় উত্তেজিত জনতা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকারিয়া হোসেনের ব্যবহৃত গাড়িসহ পুলিশের ৩টি পিকআপ ভ্যান আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড ফাকা গুলি ছোঁড়ে। গতকাল শনিবার রাত ৯টায় উপজেলার চারিতালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রূপগঞ্জের ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর হোসেন টিটো জানান, নির্বাচন শেষে ব্যালট পেপার গণনা শেষ হলেও রহস্যজনক কারণে চারিতালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার মনিরুজ্জামান তা গোপন করেছেন। এখানকার সকল কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হলেও এ কেন্দ্রের ভোটের প্রার্থক্য ঘোষণা করা হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় মেম্বার প্রার্থী ও তাদের সমর্থিত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে প্রিজাইডিং অফিসার মনিরুজ্জামানসহ প্রশাসনের লোকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় পুলিশ গ্রামবাসীকে ধাওয়া করলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করতে গেলে গ্রামবাসী ম্যাজিষ্ট্রেট, প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিং অফিসার, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। সড়কে স্থানে স্থানে কেটে ফেলে এবং গাছ কেটে রাস্তায় অবরোধ সৃষ্টি করে। পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিপেটায় অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়।
এ সময় বিজিবি সদস্য আনসারুল হক গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শটগানের অর্ধশতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। উত্তেজিত জনতা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকারিয়া হোসেনের ব্যবহৃত গাড়িতে আগুন দিলে পুলিশ আরো অর্ধশতাধিক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।
দফায় দফায় ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া এবং পুলিশের লাঠির আঘাতে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। আহত শফিকুল, মজিবর, আয়েছ আলী, মনির হোসেন, আমজাদ হোসেন, কায়েস, রোমাজ্জল, জাহিদ হোসেন, দেলোয়ার, সাজ্জাদ, দেলোয়ার হোসেন, মিজান, আমিনুল ইসলাম, শফিক, মিন্টু, কবির হোসেন, সহিদুল্লাহ, জামাই মনিরসহ শতাধিক ব্যক্তিকে নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ ও নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকারিয়া হোসেন জানান, ব্যালট পেপার গণনা শেষে ভোট কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা না করায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বার প্রার্থীর লোকজন এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। গ্রামবাসীর হামলায় পুলিশ সদস্যরাও আহত হয়েছে। রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, অতিরিক্ত র্যাব ও পুলিশ গিয়ে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে একই কেন্দ্রে পুলিশ ও বহিরাগত লোকজনের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই সময় আরো ৪০ ব্যক্তি আহত হয়।