সাভারের রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৮ শতাংশ শ্রমিক এখনও বেকার। আহত শ্রমিকরা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণে এখনও কাজে ফিরতে পারছেন না। আর এ দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া প্রায় ৫৯ ভাগ শ্রমিকই দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
সম্প্রতি রাজধানীর ব্রাক সেন্টার ইন-এ অ্যাকশনএইডের প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
‘রানা প্লাজা ধসের তিন বছর: পোশাক শিল্পের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পোশাক খাতের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবিরের সঞ্চালনায় প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলেন মানবাধিকারকর্মী ড. হামিদা হোসেন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল সাইদ আহমেদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের (আইএলও) প্রকল্প ব্যবস্থাপক টপো পুটিয়ানেন, পোশাক খাতের উন্নয়নে গঠিত মার্কিন ক্রেতাদের সংগঠন ‘অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ রবিন।
এছাড়া রানা প্লাজার ভুক্তভোগী শ্রমিক রফিক খান ও নাজমা আক্তার আলোচনায় অংশ নেন। গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন রাইট টু জাস্ট অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক গর্ভন্যান্স-এএবি’র ম্যানেজার নুজহাত জেবিন।
গবেষণায় দেখা যায়, দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের প্রায় ৭৯ শতাংশ নিজে ব্যবসা করে বাঁচতে চান এখন। মাত্র ৫ ভাগ শ্রমিক পোশাক শিল্পে ফের কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। অর্থাৎ অধিকাংশ শ্রমিকদের মধ্যে কারখানায় কাজ করার ভীতি কাজ করছে।
প্রতিবেদনটি ১৩০০ জন আহত এবং ৫০০ জন নিহত শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তৈরি করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বেশির ভাগেরই বয়স ২১ থেকে ৩০ এর মধ্যে।
প্রতিবেদন বলা হয়, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকদের ২০ ভাগেরই পরিবারে দুইজন করে নির্ভরশীল সদস্য আছে। ২৩ ভাগের আছে ৪ জন করে নির্ভরশীল সদস্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, এখন ওই শ্রমিকরা যে আয় করেন, তার ৬১ ভাগ চলে যায় খাবারে। আয়ের প্রায় ১৬ ভাগ যাচ্ছে ঘর ভাড়ায়। তারা মাত্র ৮ ভাগ টাকা খরচ করতে পারেন চিকিৎসার ক্ষেত্রে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় এক হাজার ১৭৫ জন শ্রমিক নিহত হয়। আহত হয় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। এটি বিশ্বের ইতিহাসে ৩য় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।